দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার মুখে ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইরান আলোচনায় রাজি হলে আজ মঙ্গলবারই প্রতিনিধিদলটি ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্টের জামাতা জারেড কুশনারও সফরে ভ্যান্সের সঙ্গে থাকবেন।
তবে আলোচনার পরিবেশ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘গভীর অবিশ্বাসের’ কথা উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন।
পেজেশকিয়ান বলেছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে অগঠনমূলক ও পরস্পরবিরোধী সংকেত আসছে। এটি প্রকৃতপক্ষে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার একটি চেষ্টা।
পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়ে দেন, ‘ইরানিরা কোনো শক্তির কাছে মাথা নত করে না।’
অবশ্য রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁরা এ আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি ‘ইতিবাচকভাবে বিবেচনা’ করছেন। গুঞ্জন রয়েছে, জেডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকলে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে পারেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
এদিকে আজ সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, হুমকির মুখে ইরান কোনো আলোচনায় বসবে না। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে আমরা নতুন চমক (কার্ড) দেখানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে আছি।’
ট্রাম্পের সমালোচনা করে গালিবাফ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আলোচনার টেবিলকে ‘আত্মসমর্পণের টেবিল’ বানাতে চাইছেন অথবা নতুন করে যুদ্ধ বাধানোর অজুহাত খুঁজছেন।
সংকট নিরসনে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। ট্রাম্পও অনড় থেকে বলছেন, ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। তবে তিনি ইরানি নেতাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন।
এর আগে ট্রাম্প নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন যে, ভ্যান্স ও তাঁর দল এখনই ইসলামাবাদের পথে রয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা দ্রুত তা সংশোধন করে জানান, আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত হলে ভ্যান্স আজ সকালে রওনা দেবেন।
ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের মাধ্যমে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ থামাতে বুধবার দ্বিতীয় দফার এ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে পারে। ট্রাম্প দুই সপ্তাহের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়ে ‘ওয়াশিংটন সময় বুধবার সন্ধ্যা’ পর্যন্ত নির্ধারণ করেছেন।
ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এ মেয়াদ আর বাড়ানোর সম্ভাবনা খুব কম এবং এর পরই আবার বোমাবর্ষণ শুরু হতে পারে। যদিও তিনি এ–ও বলেন, ‘একটি খারাপ চুক্তির জন্য আমি তাড়াহুড়ো করব না। আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে।’
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ভ্যান্সের নেতৃত্বে ইরানের সঙ্গে ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা ব্যর্থ হয়েছিল। ইরান তাদের ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের মার্কিন শর্ত মানতে অস্বীকার করায় সেই আলোচনা ভেস্তে যায়।
দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্য হাই-ভোল্টেজ বৈঠক ঘিরে ইসলামাবাদে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং আলোচনার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান