গভীর রাতে আগুনে ছাই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মালামাল
এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে আগুনে পাঁচটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৪টার দিকে উপজেলার পঞ্চকরণ ইউনিয়নের পাঁচগাঁও বাজারের সেতুসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দোকানমালিক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে তাঁদের ২৫ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সাবেক সেনাসদস্য খান মজিবুর রহমানের মালিকানাধীন পাঁচটি দোকানে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। ফজরের নামাজে যাওয়ার পথে কয়েকজন মুসল্লি আগুন দেখতে পান। তাঁরা পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে কচুয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর মধ্যে একটি ছিল মুদি দোকান। বাকি তিনটি দোকান ভাড়া দেওয়া ছিল এবং একটি ছিল খালি। ভাড়াটিয়া নূরুল আমিন শিকদার সেখানে রিকশার গ্যারেজ ও পুরোনো মালামালের ব্যবসা করতেন। আগুনে তাঁর প্রায় এক লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে বলে তিনি জানান।
আরেক ভাড়াটিয়া মো. মজুমদার ‘রোহান ফার্মেসি’ নামে ওষুধের দোকান পরিচালনা করতেন। তাঁর দাবি, দোকানে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ওষুধ ছিল। আগুনে সেসব ওষুধ পুড়ে গেছে।
ভাড়াটিয়া মো. শাহিনের চা, পান, সিগারেট ও আইসক্রিমের দোকানও আগুনে পুড়ে যায়। তাঁর দাবি, দোকানে থাকা প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে।
শাহিন বলেন, রাত ২টার দিকে মাছ ধরে তিনি দোকানের সামনে থেকে বাড়িতে চলে যান। বাড়ি যাওয়ার সময় তিনি আগুনের কোনো আলামত দেখতে পাননি। পরে ভোরে দোকানে আগুন লাগার খবর পান।
শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পঞ্চকরণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন তালুকদার। তিনি বলেন, রাতের আঁধারে কারা আগুন দিয়ে পাঁচটি পরিবারকে পথে বসিয়েছে, তা তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান তিনি।
তবে আগুনের ঘটনাটি নাশকতা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফায়ার সার্ভিসও তদন্ত ছাড়া আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
দোকানমালিক খান মজিবুর রহমানের মেয়ে মেহেবুবা মুনমুন অভিযোগ করেন, তাঁর বাবার বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এরপর তাঁদের দোকানঘরগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
মেহেবুবা মুনমুন আরও বলেন, বিভিন্ন ব্যাংকে তাঁদের প্রায় ২৫ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। দোকান ও ব্যবসার মালামাল পুড়ে যাওয়ায় এখন সেই ঋণ পরিশোধ নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
তাঁর এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং আগুনের সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
কচুয়া ফায়ার সার্ভিসের লিডার মো. জাফর মোল্লা বলেন, খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন দেখতে পান এবং পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
ভোরের আগুনে পাঁচটি দোকান পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় পাঁচগাঁও বাজারে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দোকানমালিক ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আগুনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
এখন তদন্তেই বেরিয়ে আসার অপেক্ষা—আগুনটি দুর্ঘটনাজনিত, নাকি পরিকল্পিতভাবে কেউ আগুন দিয়েছে।