https://www.a1news24.com
১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:৩৩

ভূমধ্যসাগরে ভাসমান ১০ দিন, প্রাণ গেল ৯ বাংলাদেশিসহ ১০ জনের

লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিস যাওয়ার পথে নেভিগেশন ব্যবস্থা ও জ্বালানি সংকটে দিকভ্রষ্ট হয়ে প্রায় ১০ দিন সাগরে ভাসতে হয়েছে ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে। তীব্র গরম, প্রচণ্ড রোদ, খাবার ও পানির সংকটে এ সময় ৯ বাংলাদেশি ও এক সুদানিসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূল থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ২৯ বাংলাদেশিকে। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মিসরের কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ১৬ আগস্টের এক প্রাথমিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

দূতাবাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মানব পাচার চক্রের সহায়তায় লিবিয়ার তবরুক থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিস যাওয়ার উদ্দেশে ৩ আগস্ট একটি রাবারের নৌকায় যাত্রা করেন ৩৮ বাংলাদেশি এবং চার সুদানিসহ ৪২ জন। নৌকাটিতে স্পিডবোটের ইঞ্জিন থাকলেও উপযুক্ত কোনো নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না। যাত্রার আগে তাঁদের জানানো হয়েছিল, গ্রিসে পৌঁছাতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগবে।

কিন্তু নেভিগেশন ব্যবস্থার অভাব এবং একপর্যায়ে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় নৌকাটি দিক হারিয়ে ফেলে। এরপর প্রায় ১০ দিন ভূমধ্যসাগরে ভাসমান অবস্থায় কাটে তাঁদের। ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিসরের মারসা মাতরুহ এলাকার উপকূলে পৌঁছালে স্থানীয় পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে।

চিকিৎসাধীন এক বাংলাদেশি নাগরিক আব্দুল করিমের সঙ্গে কথা বলে দূতাবাস জানতে পারে, সাগরে দীর্ঘ সময় ভাসমান অবস্থায় তীব্র গরম, প্রচণ্ড সূর্যের তাপ এবং খাবার ও পানির সংকটে একে একে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় ৯ বাংলাদেশি ও এক সুদানির মৃত্যু হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় সাগরে থাকার কারণে মরদেহগুলোতে পচন ধরলে জীবিত যাত্রীরা একপর্যায়ে সেগুলো সমুদ্রে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হন।

উদ্ধারের পর স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মোট ২৯ বাংলাদেশি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন গুরুতর অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন।

ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের প্রয়োজনীয় কনস্যুলার ও অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দূতাবাস জানিয়েছে, চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিসরের প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য, চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের বক্তব্য এবং সরেজমিন সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে আরও বিস্তারিত প্রতিবেদন পরে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

আরো..