বাজারে বেশ কিছুদিন ধরে ব্রয়লার মুরগি, ডিম, আটা ও ময়দার দাম চড়া রয়েছে। এ সময় বেশির ভাগ সবজির দাম তুলনামূলক কম ছিল। তবে চলতি সপ্তাহে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সবজি ও মাছের দামে কিছুটা বাড়তি প্রবণতা দেখা গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আদাবর বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত রোববার দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। আর পেট্রলের নতুন দাম প্রতি লিটার ১৬০ টাকা ও অকটেনের দাম ১৬৫ টাকা। তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর ট্রাকের ভাড়া বেড়েছে। ফলে উৎপাদন স্থল থেকে পাইকারি বাজার, পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজার—প্রতিটি ধাপেই অল্প অল্প করে দাম বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বেশ কয়েক ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বেগুনের। চার দিন আগে বেগুন ৮০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হতো। এখন দাম বেড়ে ১০০ থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে। পটোল, কাঁকরোল ও বরবটির মতো সবজি আগে ৮০ টাকায় কেনা যেত, যা বর্তমানে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের দামও বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা। যেমন শিং মাছ কেজিতে ৩০-৫০ টাকা বেড়ে ৫০০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে। কই, পাবদা, চিংড়ি, তেলাপিয়া, পাঙাশ, রুই মাছের দামও কিছুটা বেড়েছে।
এদিকে এক মাসের মধ্যে খোলা আটার দাম কেজিতে ৫ টাকা এবং ময়দা ১০ টাকা বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির পর প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকা, খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০-২০০ টাকা এবং প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকায় কেনা যায়। দেড় মাস ধরে এই দামেই মুরগি ও ডিম বিক্রি হচ্ছে। এর আগে দাম ২০ টাকার মতো কম ছিল।
বোতলজাত সয়াবিন কম
বাজারে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল কম পাওয়া যাচ্ছে। পাঁচ লিটারের বোতলের সয়াবিন তেলের সরবরাহও কিছুটা কমেছে।
চলতি মাসের শুরুতেই বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছিল ভোজ্যতেল পরিশোধন ও উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো। মূল্যবৃদ্ধির পর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম হয় ২০৪ টাকা। এর আগে প্রায় দুই মাস ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম ছিল। মূল্যবৃদ্ধির পর বাজারে বোতলের সয়াবিন তেলের সরবরাহ বেশ কিছুদিন ঠিক ছিল। এখন আবার তা কমেছে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কোম্পানিগুলো বাজারে কম পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে। কোম্পানিগুলো সয়াবিন তেলের দাম আরও কিছুটা বাড়াতে চায় বলে সরবরাহকারীরা (ডিলার) তাঁদের জানিয়েছেন। অবশ্য সব বাজারে বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ সমানভাবে কমেনি।