স্টাফ রিপোটার,বাগেরহাট: বাগেরহাট বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুলের ১৪৭ তম উদযাপন উপলক্ষে শনিবার সকাল সাড়ে ৯ টায় বর্ণাঢ্য র্যালী বিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে জাতীয় সংগীত ও জন্ম দিনের কেক কেটে ১৪৭ তম প্রতিষ্ঠা বাষিকীর আনুষ্ঠানিক উদ্ভোদন করা হয়। বাগেরহাটের কৃতি সন্তান সাবেক সচিব ড. মশিউর রহমান কাটার পর উদ্ভোদন করেন। বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এম এ সালামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্তনালয়ের অতিরিক্ত সচিব নুজহাত ইয়াসমিন, সম্মানিত অতিথি ছিলেন সাবেক সচিব ড. ফরিদুল ইসলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর মো. আজাদ খান, জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার তৌহিদুল আরিফ, বিদ্যালয়ের প্রধান অধ্যক্ষ ফারহানা আক্তার।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) নুজহাত ইয়াসমিন বলেন, অতিথি স্কুলে আসবেন আর সেজন্য ছোট ছোট বাচ্চাদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখবেন এই মনোভাব থেকে বের হয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেছেন, “বিগত দিনে আমরা দেখেছি, একজন অতিথি আসবেন বলে রাস্তায় স্কুলের বাচ্চাদেরকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। রাস্তায় ছয়/সাত ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে বাচ্চারা অচেতন হয়ে পড়ে গেছে। আমাদের এসব মনোভাব থেকে সরে আসতে হবে। যাদের জন্য এগুলো করা হয় তাদেরও বলতে হবে এগুলো বন্ধ করার জন্যে।”
তিনি আরও বলেন, “উন্নয়ন কাজের জন্য বিভিন্নভাবে তদবির হয়ে থাকে। অনেক সময় প্রভাবশালীদের চাপে কাজ করে দিতে হয়। এসব পুরনো সংস্কৃতি থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে।”অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রাক্তন ও বর্তমান মিলিয়ে দেড় হাজারের বেশি শিক্ষার্থী নিববন্ধন করেছেন। এদিন স্কুল প্রাঙ্গণ শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন।
স্মৃতিচারণ করে ষাটের দশকের শিক্ষার্থী অধ্যাপক বুলবুল কবির বলেন, “১৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণিল আয়োজনে অংশ নিতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। যা বলে শেষ করা যাবে না। এখানকার শিক্ষকরা অনেকেই এখন বেঁচে নেই। তারা ছিলেন মানুষ গড়ার সত্যিকার কারিগর। তাদের কাছ থেকে যে শিক্ষা পেয়েছি তা কোনোদিন ভুলতে পারব না।”
বিদ্যালয়ে প্রাক্তন ছাত্র প্রফেসর মো. সালেহ আহমেদ, সাংবাদিক আশিক কুমার দে, তনুজী নাগ, আলী আহমেদ স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভায় অংশ নেন। বিকেল চারটায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে বাগেরহাট বহুমূখী কলেজিয়েট স্কুল ১৪৭ তম প্রতিষ্টা বাষিকীর অনুষ্ঠান শেষ হয়।