স্টাফ রিপোটার,বাগেরহাট: সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে ক্ষোভ, অনিয়মের অভিযোগ আর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে বাগেরহাটের চিতলমারী। সার ডিলার নিয়োগ কমিটিতে থেকে অর্থের বিনিময়ে ডিলারশিপ দেওয়ার সঙ্গে দলীয় নেতাদের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে তাদের বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. খাদিজা আক্তার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। বৃহস্পতিবার ( ১৫ আক্টবর) দুপুরে চিতলমারী উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাঁরা সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চিতলমারী উপজেলা,কৃষক দলের সভাপতি শেখ শহিদুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক নিয়ামত আলী খান,, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক জবরুল শেখ, শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ ইউসুফ আলী শেখ, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাজু খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন-আহবায়ক শামীম শেখ, যুবদল নেতা জয়নুল পারভেজ সুমন, ছাত্রদলের সদ্য সাবেক যুগ্ন-আহবায়ক আজমল হোসেন আজিম, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান মিরাজ, কলেজ ছাত্রদল সাবেক আহবায়ক মোঃ শহীদ মীর প্রমুখ।
কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অর্থের বিনিময়ে ডিলারশিপ দেওয়ার সঙ্গে দলীয় কিছু নেতার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাঁদের দাবি, আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সহযোগিতা করে কেউ অন্যায় সুবিধা দিয়ে থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
বক্তারা আরও বলেন, কৃষকদের কাছে সময়মতো সার পৌঁছানো এবং ন্যায্য দামে সার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। সার ডিলার নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় না দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনার দাবি জানান তাঁরা।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. খাদিজা আক্তার ও কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফের অপসারণ দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। তাঁরা বলেন, দ্রুত তাঁদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।আন্দোলনকারীরা সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগে জড়িত দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং দোষ প্রমাণিত হলে তাঁদের দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. খাদিজা আক্তার ও কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফের অপসারণের দাবি জানান তাঁরা। এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দেন নেতাকর্মীরা।
এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. খাদিজা আক্তার বলেন, সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে নিয়মনীতি অনুসরণ করেই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনিয়মের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফ বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো অনুমোদন দেওয়া। আমরা নিয়ম অনুযায়ী সেই দায়িত্ব পালন করেছি। অনুমোদন দেওয়ার বাইরে নিয়োগ প্রক্রিয়ার অন্যান্য বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই।