https://www.a1news24.com
২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:১৮

পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রধান সহকারী একই স্থানে বহাল তবিয়তে ৩২ বছর

সাফিউল ইসলাম সাফি, পাটগ্রাম লালমনিরহাট প্রতিনিধি :লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর প্রধান সহকারী খালেদা আক্তার রিনা ৩২ বছর ধরে বহাল তবিয়তে একই স্থানে রয়েছেন। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম সহ-ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারী) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় এমন সব তথ্য। তিনি দীর্ঘদিন একই উপজেলায় কর্মরত থাকায় তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকুরীরত একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাক্তি বলেন, এমন কোনো ফাইল নেই তিনি টাকা নেন না। টাকা না দিলে কোন ফাইল পার হয় না।

দীর্ঘদিন একই স্থানে চাকুরী করার কারণ জানতে চাইলে স্থানীয়রা জানান, বিগত আ”লীগ সরকারের আমলে তার বিপক্ষে কেউ কথা বললে তাকে নাকানী চুবানী খেতে হতো। তার দাপটে কেউ কথা বলতে পারতনা। পাটগ্রামের বড় বড় নেতাদের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক থাকায় ও তার স্বামী লতিফুল ইসলাম আ”লীগের নেতা হওয়ার কারণে তার বিপক্ষে কেউ কথা বরতে পারতো না। কয়েক বার বদলীর আদেশ হলেও ক্ষমতার জোরে তা বাতিল করেন তিনি। এভাবেই তিনি একই স্থানে ৩২ বছর বহাল তবিয়তে চাকুরী করছেন।

গত ৫ আগষ্টের পরে ছাত্র জনতার আন্দোলনে আ”লীগের পরাজয় হলে পাল্টে যায় প্রেক্ষাপট। সম্প্রতি যুগের আলো পত্রিকার সাংবাদিক সাইফুল সবুজ তার দুর্নীতির বিপক্ষে তথ্য চাইতে গেলে তাকে কৌশলে পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেন। কথা বলা শেষ হলে কিছু বখাটে ভাড়া করে তাকে হুমকি ধামকি দেন।

এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকুরীরত প্রধান সহকারী খালেদা আক্তার রিনার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একই স্থানে বেশী দিন চাকুরী করা যাবে না কে বলেছে?? এ মেডিকেলের স্টোর কিপার তিনিও দীর্ঘদিন এই হাসপাতালে চাকুরী করেছেন। আমি করলে দোষের কি?? তিনি বলেন বেশী দিন একই স্থানে চাকুরী করার বিষয়টি উপর মহল জানেন। তারা কেন আমাকে এতদিন এখানে রেখেছে, তা তারাই ভালো বলতে পারবেন। এবং তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয জানতে চাইলে তিনি বলেন এখানে দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়নি। আমি এবিষয় কিছুই বলতে পারবো না। যা বলার স্যার বলবেন। পরে তার স্বামীকে খেতে দেয়ার কথা বলে ফোন কেটে দেন।

সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন, বিভিন্ন অনিয়ম আর দুর্নীতির তথ্য জানার জন্য উপজেলা স্বাস্থ কম্পেলেক্স, গেলে আমাকে খালেদা আক্তার রিনা কৌশলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তার কাছে যেতে বলে এবং তার সাথে কথা বলা শেষে। বের হয়ে আসার পথে কিছু বখাটে আমাকে হুমকি ধামকি দেয়। এঘটনায় পাটগ্রাম থানায় খালেদা আক্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি এবং অনুলিপি লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাছে প্রেরোণ করছি।

এ ব্যপারে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা দেবব্রত কুমার রায় এর সাথে মুঠোফোনে আলোচনা হলে তিনি বলেন, সাংবাদিক হয়রানীর বিষয়টি শুনেছি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক জরুরী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আর কত বছর থাকার নিয়ম রয়েছে সেটা আমার জানা নেই।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডাঃ নির্মলেন্দু রায়ের কাছে পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রধান সহকারী একই স্থানে বহাল ৩২ বছর রয়েছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যা রয়েছে তাতে কি হয়েছে। এক বলার পর তরিঘড়ি করে ফোন কেটে দেন তিনি।

আরো..