https://www.a1news24.com
২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:৫১

চীনা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ, দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের আশাবাদ প্রতিমন্ত্রী

খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালু হলে বদলে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি

 

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির :দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন খানজাহান আলী (রহ.)বিমানবন্দর প্রকল্প আবারও আলোচনায় এসেছে। প্রায় তিন দশক ধরে স্থবির হয়ে থাকা এ প্রকল্প বাস্তবায়নে এবার আগ্রহ দেখিয়েছে চীনের একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। ফলে মোংলা বন্দর, সুন্দরবন ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

গত শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লাহাটে প্রস্তাবিত হযরত খানজাহান আলী (রহ.) বিমানবন্দর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন চীনা বিনিয়োগকারী প্রতিনিধি দল। এ সময় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলবাসীর যাতায়াত সহজ করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং পর্যটন খাতের বিকাশে এই বিমানবন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনা প্রতিনিধি দল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।”

তিনি বলেন, “খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালু হলে মোংলা বন্দর, সুন্দরবন এবং সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অভূতপূর্ব গতি আসবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি।”

১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রামপালের ফয়লাহাটে খানজাহান আলী বিমানবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তবে দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছরেও প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি।

প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প দীর্ঘদিন অবহেলার শিকার হয়েছে। অথচ মোংলা বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।”

তিনি আরও জানান, চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং তারা অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। “চীনা প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা পাওয়ার পর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপন করা হবে। একনেকের অনুমোদন শেষে প্রকল্পের নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু করা সম্ভব হবে,” বলেন তিনি।

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা বলেন, “মোংলা বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, ইপিজেডের বিদেশি বিনিয়োগ এবং সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর এখন সময়ের দাবি।”

তিনি আরও বলেন, “এটি শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়; বরং দক্ষিণ এশিয়ার একটি সম্ভাবনাময় কৌশলগত সংযোগকেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ। বিনিয়োগকারীদের জন্যও এটি একটি লাভজনক প্রকল্প হতে পারে।”

চীনের সরকারি প্রতিষ্ঠান সিএসসি (CSC)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মি. পিটারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিনিধি দল প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক মতামত দিয়েছে।

পরিদর্শনকালে বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, কেডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম, রামপাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান তুহিন, মোংলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মান্নান হাওলাদারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরে আগত বিদেশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের যাতায়াত সহজ হবে, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পে নতুন গতি আসবে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে।

আরো..