সাহিত্যের ছোটকাগজ ‘স্বনন’ প্রবর্তিত ‘স্বনন সাহিত্য সম্মাননা ২০২৬’ পেয়েছেন কথাসাহিত্যিক আকমল হোসেন নিপু এবং কবি ও ‘অগ্নিশিখা’র সম্পাদক সুমন বনিক। কথাসাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আকমল হোসেন নিপু এবং লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সুমন বনিককে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। শুক্রবার মৌলভীবাজার পৌরসভা মিলনায়তনে দুদিনব্যাপী ‘স্বনন সাহিত্য উৎসব ২০২৬’-এর প্রথম দিনে তাঁদের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি জাকির জাফরান, সচিব, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। উদ্বোধক ও বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি-গবেষক ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লোকগবেষক আহমদ সিরাজ, কবি-প্রাবন্ধিক অধ্যাপক স্বপন নাথ, কবি-সম্পাদক কামরুল বাহার আরিফ, কবি-সম্পাদক নাহিদ আশরাফী, লেখক-গবেষক অপূর্ব শর্মাসহ বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা।
সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালিতে কবি, লেখক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন।
উৎসবের প্রথম পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘স্বনন’-এর সম্পাদক কবি সুনীল শৈশব। উদ্বোধনী আলোচনায় বক্তব্য দেন সৈয়দ মুজিবুর রহমান, ডা. অঞ্জন ভৌমিক, ডা. বিনেন্দু ভৌমিক, ডা. ওবায়েদ বাপ্পি, এম এ আহাদ, মজিবুর রহমান রঞ্জু, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট বিশ্বজিৎ ঘোষ ও নুরুল ইসলাম প্রমুখ। বক্তারা ‘স্বনন সাহিত্য উৎসব’-এর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
দ্বিতীয় পর্বে ‘সাম্প্রতিক লিটলম্যাগাজিন আন্দোলন’ শীর্ষক সেমিনারে বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদকরা আলোচনায় অংশ নেন। তৃতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ। এরপর ‘সমকালীন সাহিত্য, শিল্পচেতনা ও সিলেটের সাহিত্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাটি সঞ্চালনা করেন ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ।
সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয় উৎসবের পঞ্চম পর্ব। এ পর্বে ‘স্বনন’-এর সপ্তম সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং ‘স্বনন সাহিত্য উৎসব ২০২৬’ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে আকমল হোসেন নিপু ও সুমন বনিককে উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ক্রেস্ট, মানপত্র এবং ২০ হাজার টাকা অর্থমূল্যের প্রাইজবন্ড। সম্মাননা পর্বটি সঞ্চালনা করেন কবি মুজাহিদ আহমদ।
প্রথম দিনের আয়োজনের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সংগীত পরিবেশন করে ‘পিঞ্জিরা’ সংগীতদল।