https://www.a1news24.com
২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:৪৯

পাইকগাছায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উদ্যোগ “স্কুল ফিডিং কর্মসূচি” অনিয়ম ও মানহীন খাদ্য বিতরণের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। উপজেলার ১৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচালিত এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং অপুষ্টিজনিত সমস্যা কমানো। তবে বাস্তবায়নে নানা অনিয়মের অভিযোগে অভিভাবক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু বিদ্যালয়ে সরবরাহকৃত বনরুটির প্যাকেটে উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ উল্লেখ নেই, যা খাদ্য নিরাপত্তা বিধির পরিপন্থী। এছাড়া নির্ধারিত মেনুর সঙ্গে সরবরাহকৃত খাবারের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও বিস্কুটের পরিবর্তে অপরিপক্ব ও ছোট আকারের কলা দেওয়া হচ্ছে, আবার কোনো কোনো দিন অর্ধসিদ্ধ ডিম সরবরাহ করা হচ্ছে যাা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।

অভিভাবকদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এক অভিভাবক বলেন, “সরকার ভালো উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু অনিয়মের কারণে আমাদের শিশুরা ঠিকমতো খাবার পাচ্ছে না।” আরেকজন জানান, “রুটির গন্ধ অস্বাভাবিক লাগে, বাচ্চারা অনেক সময় খেতেই চায় না।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, সরবরাহকৃত খাদ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তাদের কিছু করার সুযোগ থাকে না, তারা যা পান তাই বিতরণ করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ বলেন, মানহীন বা মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এতে ডায়রিয়া, বমি ও ফুড পয়জনিংয়ের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় দেবনাথ জানান, কিছু অভিযোগ তাদের নজরে এসেছে এবং সেগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সাইফুল ইসলাম (ওসাকা, পাবনা) বলেন, যান্ত্রিক ত্রæটির কারণে একদিন প্যাকেজিংয়ে তারিখ ছাপা হয়নি এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিমুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রæত সমাধানের আশা করা হচ্ছে।

সচেতন মহলের মতে, সরকারের এই জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অনিয়ম চলতে থাকলে তা বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে এবং সরকারের এ উদ্যোগটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। তাই দ্রæত তদন্ত মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

আরো..