ময়না তদন্তের কাজে বাঁধা ও মারপিটের অভিযোগে ঘের মালিকসহ মৃতের স্বজনদের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ পাইকগাছায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দিনমজুর ইমান (৪০) আলীর মৃত্যুর পর ২ মাসের শিশু সন্তান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মৃতের পরিবার। গত ৯ মে শনিবার মৎস্য ঘেরে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু বরণ করেন উপজেলার চাঁদখালীর কৈয়সিটিবুনিয়া গ্রামের জিবারুল ইসলামের ছেলে দিনমজুর ইমান আলী। এদিকে ঘটনার দিন লাশের ময়না তদন্তের কাজে বাঁধা প্রদান ও পুলিশের উপর হামলা-মারপিটের অভিযোগে থানায় মামলা করেছে পুলিশ। ১০মে থানা পুলিশের এসআই মনিরুজ্জামান বাদি হয়ে এ মামলা করেন। যার নং-০৮।
এ মামলায় আসামী করা হয়েছে নিহত ইমান মোড়লের জামাতা লক্ষীখোলার আশিক (৩৫) একই গ্রামের বাসিন্দা ঘের মালিক ইকবাল কাগজী (৪৫) ও ঘের কর্মচারি শফিকুল সরদার( ৩৫) সহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০/২৫ জন নারী ও পুরুষ। তবে, মামলার ঘটনা জানাজানির পর এলাকার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ইমানে’র অকাল মৃত্যুতে তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানসহ বৃদ্ধ মা-বাবা ও স্বজনদের কান্না ও আহাজারি’র মধ্যে পুলিশের মামলার ঘটনায় শোকাহত পরিবারটি হতাশায় ভেঙে পড়েছেন। নিহতের পরিবার এবং এলাকার অনেকের আক্ষেপ ঘের মালিকসহ নিরিহ ব্যক্তিদের এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলা ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে,৯মে ভোরে ইমানসহ আরো ৬ জন দিনমজুর এলাকার ইকবাল কাগজীর মৎস্য ঘেরে জাল নিয়ে মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরে সকাল ১০ টার দিকে ঘেরের বাঁধ দিয়ে ইমান ও জলিল খাঁ দু’জনে জালদড়ি মাথায় করে বাড়ী ফেরার সময় ইমান ঘেরের বাঁধে পা পিছলে জাল সহ ঘেরের বিদ্যুতের তারের উপর পড়ে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। এ সময় তাকে উদ্ধার করতে গিয়েও জলিল ও আহত হন। পরে সঙ্গী এবং ঘের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ডাক্তার এবং পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ভাই লিপ্টার মোড়ল জানান, দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে ভাই এর লাশ বাড়িতে পাঠিয়ে ছাড়পত্রের মূল কপি পুলিশের এসআই কৃপা সিন্ধু’কে দিয়ে আসি।
এদিকে ঘটনার দিনে থানার অপমৃত্যু ডিউটিরত পুলিশের এসআই মনিরুজ্জামান মামলায় উল্লেখ করেন সাংবাদিকের মোবাইলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে জানতে পারি মৎস্য ঘেরের বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ভিকটিমের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মৃতের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ পুলিশ হেফাজতে নিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় নিহতের পরিবার ও স্বজনরা বাঁধা হয়ে দাড়ান। এক পর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে বেআইনি জনতা লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের উপর চড়াও হয়ে মারপিট করে । এতে আমি ও এসআই কৃপা সিন্ধু মৃধা ও কনস্টেবল জহিরুল আহত হই। পরে আমরা ঘটনাস্থল থেকে চলে আসতে বাধ্য হই।
অন্যদিকে নিহতের স্ত্রী রাণী বেগম ও শশুর আব্দুস সবুর পুলিশের উপর হামলা ও মারপিটের কথা অস্বীকার করে বলেন, বাড়িতে কান্নার আহাজারি’র মধ্যে শত অনুরোধের পরেও পুলিশ লাশ নিতে চাইলে এলাকার বহু নারী-পুরুষ উত্তেজিত হয়ে পুলিশের বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিবাদের মুখে পুলিশ চলে গেলে রাত ৮ টার দিকে মৃতের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এ সম্পর্ক নিহতের স্ত্রী রানী আরো বলেন, বিদ্যুৎ দুর্ঘটনায় স্বামীর অকাল মৃত্যুতে দুই মাসের শিশু সন্তান নিয়ে আমরা দিশেহারা। দুর্ঘটনার সময় ঘের মালিক ইকবাল কাগজী ঘটনাস্থল সহ এলাকায় ছিলেন না। এ মৃত্যু নিয়ে আমাদের কোন অভিযোগ নাই। আমরা কারোর বিরুদ্ধে কোথাও কোন অভিযোগ ও করিনি।
এ বিষয়ে থানার ওসি (অপারেশন) জুলফিকার আলী জানান, লাশের ময়না তদন্তে পুলিশের কাজে বাঁধা প্রদান ও মারপিটে ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামীদের পুলিশ গ্রেফতারের চেষ্টা করছে বলে থানা পুলিশের এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।