https://www.a1news24.com
১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:০৭

দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

পুরোনো ঋণ কর্মসূচি বাদ দিয়ে নতুন কর্মসূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করেছে ঢাকা সফররত সংস্থাটির ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আমলে নেয়া ঋণ কর্মসূচি জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেনি। তাই সেটি বাদ দিয়ে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে আইএমএফের কোনো কর্মসূচিতে সরকার অংশ নেবে না।

আজ রোববার (১২ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের সঙ্গে আইএমএফের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংস্থাটির মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি বৈঠকে অংশ নেয়।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, আগের ঋণ কর্মসূচি জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত করেনি।

ডলার সংকট মোকাবিলা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানো এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ২০২৩ সালে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়।

এই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। তবে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় নিয়ে প্রায় এক বছর আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত তা অনুমোদন পায়নি। এর মধ্যেই নতুন ঋণ কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে উভয় পক্ষ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আইএমএফের আগের ঋণ কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে এসেছে বর্তমান সরকার। জনগণের স্বার্থে নতুন করে ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছি। কিস্তির টাকা পাওয়া নিয়ে চিন্তা করছি না। আগের সরকার যে ঋণ কর্মসূচি নিয়েছিল, তাতে জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত করা হয়নি।’

তিনি আরও জানান, আগের ঋণ কর্মসূচির ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় নিয়ে সরকারের কোনো উদ্বেগ নেই। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের সুবিধার জন্য ভিসা নীতিতেও পরিবর্তন আনা হবে।

ঢাকা সফর শেষে আইএমএফের প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনে সংস্থাটির সদর দফতরে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেবে। মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে আগামী অক্টোবরে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পর নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করতে আরেকটি মিশন ঢাকায় আসতে পারে।

আরো..