https://www.a1news24.com
২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:৫৭

দুম্বা ও গারলের খামার গড়ে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন কাউনিয়ার বাহাদুর

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা-এর নিজপাড়া গ্রামে দুম্বা ও গারলের খামার গড়ে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তরুণ খামারি জাকির হোসেন বাহাদুর। একসময় মুরগির খামারে লোকসানের মুখ দেখলেও হার না মেনে এখন ভিন্নধর্মী পশুপালনের মাধ্যমে এলাকায় আলোচনায় এসেছেন তিনি। মুরগির পুরোনো সেডকেই কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন তার ব্যতিক্রমী দুম্বা ও গারলের খামার।

সরেজমিনে খামারে গিয়ে দেখা যায়, খোলা ও প্রাকৃতিক পরিবেশে পশুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছে। বাহাদুর জানান, মুরগির ব্যবসায় ক্ষতির পর উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শে নতুনভাবে পথচলা শুরু করেন তিনি। পরে জামালপুরের মাদারগঞ্জ এলাকার একটি খামার থেকে ৩টি গারল ও ১টি দুম্বা কিনে এনে ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু করেন। ধীরে ধীরে তার খামারের পরিধি বাড়তে থাকে।

বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ৩০টি গারল ও ৫টি দুম্বা। তিনি জানান, পশুগুলোকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হচ্ছে। প্রতিদিন মাঠে চরানোর জন্য একজন কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন, যাকে দৈনিক ৪০০ টাকা মজুরি দিতে হয়। এছাড়াও নিজস্ব জমির ঘাস, ভুষি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক খাদ্য খাওয়ানো হয় পশুগুলোকে। সুস্থ রাখতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

খামারি বাহাদুর বলেন, “এখনও বড় ধরনের লাভ করতে পারিনি। তবে এবারের কোরবানির ঈদকে ঘিরে আমি অনেক আশাবাদী। আশা করছি পশুগুলো বিক্রি করে প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো আয় করতে পারবো।” তিনি জানান, এ পর্যন্ত তার খামারে প্রায় ৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে ভেড়া ও গারল পালন করা গেলে আরও বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব। কারণ চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ অনাবাদি জমিতে প্রাকৃতিক ঘাস জন্মে, যা পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে খরচ কমে এবং পশুও দ্রæত বৃদ্ধি পায়।

এ বিষয়ে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ এআরএম আল মামুন বলেন, “বাহাদুরের খামারটি একটি অনুকরণীয় উদ্যোগ। প্রাকৃতিক উপায়ে পশু পালন করেও যে লাভবান হওয়া সম্ভব, তার বাস্তব উদাহরণ এটি। তরুণ উদ্যোক্তারা এমন উদ্যোগ নিলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।

আরো..