১৬টি নৌকা ও ৪টি শ্যালো মেশিন বিনষ্ট
আব্দুর রহিম রিয়াদ,ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসন টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে ১৬টি ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও ৪টি শ্যালো মেশিন বিনষ্ট করেছে।
মঙ্গলবার (১লা সেপ্টেম্বর)দুপুরে উপজেলা টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান,সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, রংপুর ৫১ বিজিবির মেজর জুলকার নাঈন ও ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকারের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।এতে বিজিবির ৬২ সদস্য ও ডিমলা থানা পুলিশ সহযোগিতা করেন। অভিযানে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও শ্যালো মেশিন বিনষ্ট করার পাশপাশি বেশ কিছু সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে টাস্কফোর্স গঠন করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যারা এর সাথে জড়িত তাদের তালিকা করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই তদন্তের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।তিস্তা নদী রক্ষায় টাস্কফোর্সের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ভারী যন্ত্র দিয়ে প্রভাবশালীদের যোগসাজশে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর তলে গভীর গর্ত সৃষ্টি ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তনের পাশাপাশি ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে।নাম প্রকাশ না করা শর্তে উপজেলার খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের দোহল পাড়া গ্রামের একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন,ভোর রাতে ঘুম ভাঙ্গে ইঞ্জিন চালিত নৌকার শব্দে।সে সময় থেকে অগণিত নৌকা এই এলাকায় এসে পাথর উত্তোলন করতে শুরু করে সন্ধ্যায় চলে যায় পাথর নিয়ে। টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়। নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকায় এই তীরে পানি উন্নয়ন বোর্ড চলতি বছরে ব্যাপক জিও ব্যাগ ফেলেছেন।তবে যে ভাবে নদীর ভূগর্ভস্থ থেকে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে তাতে করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যে কোনো সময় ভাঙন দেখা দিতে পারে ও জিও ব্যাগ সরে গিয়ে অথবা ফুটো হয়ে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।তাই তারা প্রশাসনের এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে তা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।