স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও আধুনিকায়নের ছোঁয়া লাগেনি
সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আধুনিকায়নের ছোঁয়া লাগেনি রংপুরের ঐতিহ্যবাহী কাউনিয়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে। দুর্বল অবকাঠামো, শত বছরের পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, জরাজীর্ণ মিটারগেজ রেললাইন, ভাঙা সিগন্যাল ও এনালগ পদ্ধতিতে চলছে গুরুত্বপূর্ণ এই জংশন। প্রতিদিন ৬টি আন্তঃনগর সহ ৩০টি ট্রেন চলাচল করলেও বাড়েনি যাত্রীসেবার মান। বিশ্রামাগার ও শৌচাগারের সংকট, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশসহ নানা সমস্যায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা।
সরেজমিনে গিয়ে জানাগেছে ১৯০৫ সালে চালু হওয়া কাউনিয়া রেলওয়ে জংশন রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগের কেন্দ্র। রংপুর থেকে ঢাকা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও বুড়িমারী স্থলবন্দরে যাতায়াতে এ জংশন অতিক্রম করতে হয়। একসময় বুড়িমারী ও মোগোলহাট সীমান্ত হয়ে ভারতের সঙ্গেও এ রেলপথের যোগাযোগ ছিল। ঐতিহাসিক এই স্টেশনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্বাধীনতার আহবানকারী, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের নানা স্মৃত। ১৯৬৯ সালে গণসংযোগের অংশ হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান কাউনিয়া জংশনে এসে স্টেশনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন এবং স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহŸান জানান। এই স্টেশনে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও হুমাইন মোহাম্মদ এরশাদও এসেছিলেন। কালের বিবর্তনে রেলপথ ও অবকাঠামোর উন্নয়ন না হওয়ায় জংশনটির গুরুত্ব ও জৌলুস কমেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় স্টেশনের পরিবেশ অনিরাপদ ও অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে। এতে রেলভ্রমণে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকেই।
স্টেশনে দীর্ঘদিন কাজ করা কুলি বাহাদুর জানান, এখন আগের মতো আয় রোজগার হয় না, আমরা যে কয়জন যাত্রীদের সেবায় নিয়জিত আছি তারা সকলেই খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করছি। স্টেশনটির উন্নয়ন হলে যাত্রী বৃদ্ধি পেত আর আমাদের আয়ও বারতো।
স্টেশন প্লাটফর্মে টি-স্টোলের মালিক সষ্টি চন্দ্র জানান, আগের মতো বেচা বিক্রি নেই, স্টেশনের আধুনিকায়ন ও যাত্রীসেবার মান বাড়ালে সাধারন যাত্রীদের চাহিদা বরতো আর আমাদের বেচা বিক্রি বেশী হতো।
কাউনিয়া জংশনের স্টেশন মাস্টার আইনুল ইসলাম জানান, এই স্টেশনে সরকারের কোন ক্ষতি নেই। প্রতি অর্থবছরেই আয় বাড়ছে। কিন্তু স্টাফ সংকট সহ স্টেশনের নানা সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, সরকার রেলপথ আধুনিকায়নে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করছে। কাউনিয়া স্টেশনেও উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছিল কিন্তু পরে তা থমকে গেছে। আশা করছি বর্তমান সরকার উত্তরাঞ্চলের যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধিসহ আয় বাড়াতে স্টেশনটিকে আধুনিকান করবে।
রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ বলেন, জনবল সংকটসহ নানা কারণে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। রেললাইন সংস্কার, ডুয়েল ব্রডগেজ নির্মাণ, স্টেশন আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল সিগন্যালিং চালু করা জরুরি।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু ট্রেনের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করতে কাউনিয়া জংশনের অবকাঠামো আধুনিকায়ন, রেললাইন সংস্কার এবং যাত্রীসেবার মান দ্রæত বাড়াতে হবে। তা না হলে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই রেল জংশনটি আরও পিছিয়ে পড়বে।