https://www.a1news24.com
১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৭:৫২

কলারোয়ার মানবিক ইউএনও জহুরুল ইসলামের আকস্মিক বদলি

বাতিলের দাবি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের

মোস্তাক আহমেদ, নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মানবিক ও জনবান্ধব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: জহুরুল ইসলামের আকস্মিক বদলিতে উপজেলাবাসীর মধ্যে গভীর হতাশা নেমে এসেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালে ১১ সেপ্টেম্বর তিনি কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তৎকালীন সময়ে অস্থির ও টালমাটাল প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে নিজ মেধা ও যোগ্যতায় কলারোয়া উপজেলার প্রশাসিনক কার্যক্রমে স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে আসেন। নিজ কর্মদক্ষতা, মানবিকতা ও জনবান্ধব কর্মকান্ডের মাধ্যমে উপজেলার সাধারণ মানুষের কাছের একজন জনপ্রিয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

এদিকে অবহেলিত কলারোয়া উপজেলার উন্নয়নের সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা জহুরুল ইসলামের বদলীর আদেশ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন, উপজেলার সুশীল সমাজ, সাংবাদিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন, ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, উপজেলার সাধারণ জনগনসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। তারা বলেন, সততার সাথে তিনি অবহেলিত কলারোয়ায় উন্নয়ন কর্মকান্ড শুরু করেছে সেই মুহুর্তে তাকে বদলী করা হলে পুনরায় উপজেলাবাসী উন্নয়ন বঞ্চিত হবে। কলারোয়ার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে অবিলম্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহুরুল ইসলামের বদলীর আদেশ বাতিল করার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিকট জোর দাবি জানান।

স্থানীয়রা জানান, দায়িত্ব পালনকালে ইউএনও মো: জহুরুল ইসলাম কলারোয়ায় উন্নয়ন কর্মকান্ডে গতি আনেন এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন। প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা প্রশংসিত হয় সর্বমহলে। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই উন্নয়ন ও জনসেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেন। যোগদানের পর থেকে তিনি পৌরসভা ও উপজেলাব্যাপী কয়েক কোটির টাকার জনগুরুত্বপূর্ন উন্নয়নমূলক কাজ সততার সাথে সম্পাদন করেছেন।

স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি জানান, তিনি ছিলেন একজন সৎ, কর্মঠ ও মানবিক কর্মকর্তা। সাধারণ মানুষের সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করতেন। বিশেষ করে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় তিনি উপজেলাবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, মো: জহুরুল ইসলাম শুধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক ও প্রেরণার উৎস। তিনি, জলাবদ্ধতা দূরীকরণের মাধ্যমে অনেক অনাবাদী জমি চাষের আওতায় এনেছেন, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংষ্কৃতিক অঙ্গনে উন্নয়নমুলক কাজ করছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতিসহ উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বদলী হয়ে চলে গেলে এসব কাজ থকমে যাওয়ার আশংখা রয়েছে। যার কারনে তাঁর বদলির খবরে আমিসহ কলারোয়াবাসী ব্যথিত। তিনি সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষের নিকট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বদলির আদেশ বাতিল করারও দাবি জানান।

কলারোয়া উপজেলা ও পৌর প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জহুরুল ইসলাম দক্ষতার সাথে একাধারে উপজেলার শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধিদের সমস্যাগুলির সমাধান করে সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া যোগদানের পর নিজ প্রচেষ্টায় উপজেলাবাসীকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, শিক্ষার মানোন্নয়নে দিকনির্দেশনা প্রদান, বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেঞ্চ, সুরক্ষা সামগ্রী, সিলিং ফ্যান, ক্রীড়া সামগ্রী ইত্যাদি বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিবন্ধি শিশু ও ব্যক্তিদের মাঝে হুইল চেয়ার প্রদান, বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষ রোপণ ও গাছের চারা বিতরণ, কৃষি মেলার মাধ্যমে কৃষিতে উদ্বুদ্ধকরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে শুকনা খাবার, টিন, নগদ অর্থ ও চেক বিতরণ, মশক নিধণে নানান উদ্যোগ গ্রহণ, উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য অবমুক্তকরণ, ভূমি বিষয়ক নানান জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ, কয়েক শতাধিক ব্যক্তিকে গাভী পালনে প্রশিক্ষণ ও কয়েক কোটি টাকার স্বল্পসুদে ঋণ ও অনুদান বিতরণ, বিভিন্ন জায়গায় খাস জমি উদ্ধার, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মাঝে জনসচেতনতা তৈরিতে উঠান বৈঠক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা, জরিমানা ও কারাদন্ড প্রদান, অবৈধভাবে দোকানপাট, বালু উত্তোলন, নির্ধারিত সময়ের আগেই অপরিপক্ক আম বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মডেল উপজেলা হিসেবে কলারোয়কে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন।

এদিকে কলারোয়া পৌরবাসী ও উপজেলার সাধারণ জনগন এলাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রাখার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বদলীর আদেশ বাতিল করার জন্য সাধারণ জনগন জেলা প্রশাসনসহ প্রশাসনের উর্ধতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরো..