ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত বিতর্কিত বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘিরে এবার বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে খেলোয়াড়দের বৈশ্বিক সংগঠন ফিফপ্রো। ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) পরিকল্পনা তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে স্বাধীন পর্যালোচনার দাবি জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, ভবিষ্যতে যেন ফিফার কোনো একক দপ্তর একতরফাভাবে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে না পারে। একই সঙ্গে ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামোয় খেলোয়াড়, ক্লাব ও লিগের প্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার দাবিও জানিয়েছে ফিফপ্রো ইউরোপ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ইনফান্তিনোর এফএফই পরিকল্পনা। এই উদ্যোগে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের ফিফার ইভেন্টগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ মালিকানা দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপও পরিকল্পনাটির আওতাভুক্ত ছিল।
উয়েফাসহ তিন মহাদেশীয় কনফেডারেশন প্রস্তাবটির বিরোধিতা করার পর শেষ পর্যন্ত এফএফই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। পরে উয়েফা বয়কটের হুমকি থেকে সরে এলেও ইনফান্তিনোর ওপর ‘আস্থা হারানোর’ কথা জানায়। আগামী বছরের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিপরীতে একজন বিশ্বাসযোগ্য প্রার্থী খোঁজার বিষয়টিও নিশ্চিত করে তারা। একই সঙ্গে এফএফই পরিকল্পনা অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় স্বাধীন তদন্তের দাবি তোলে উয়েফা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) উয়েফার সেই দাবির প্রতি সমর্থন জানায় ফিফপ্রো। সংগঠনটির বক্তব্য, ভবিষ্যতে এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যেন ‘কোনো একক সংস্থা একতরফাভাবে’ নিতে না পারে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছে তারা।
এরই অংশ হিসেবে খেলোয়াড়, ক্লাব ও লিগ প্রতিনিধিদের ফিফা কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামোয় আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার দাবি জানিয়েছে ফিফপ্রো ইউরোপ। সংগঠনটির মতে, বিশ্ব ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো শুধু প্রশাসনিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত পক্ষগুলোকেও সেই প্রক্রিয়ায় রাখতে হবে।
এফএফই নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই গত ৫ আগস্ট পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনার কথা জানিয়েছিল ফিফা। তবে সেই পর্যালোচনা কারা পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। বরং ফিফার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, এফএফই-সংক্রান্ত পুরো প্রক্রিয়াই সংস্থাটির নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে ইনফান্তিনোকে ঘিরে সমালোচনা ও পদত্যাগের দাবি উঠলেও ফিফা সভাপতি পদে থাকার পরিকল্পনা থেকে সরে আসেননি তিনি। আগামী বছরের নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে সভাপতি পদে লড়াই করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।