আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ এক সময়ের দ্রæতগতির বাহন ছিল ঘোড়াচালিত টমটম। এই বাহন এখন জাদুঘরের মডেল। তবে ঘোড়াচালিত টমটমের জায়গা দখলে নিয়েছে চীনে তৈরি তিন চাকার টমটম। ব্যাটারিচালিত এই টমটম বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ টমটম চালিয়ে বেকারত্ব ঘুচেছে প্রায় এক হাজার বেকারের। চালকদের অনেকেই এখন স্বাবলম্বী। এমনই একজন টমটম চালক আদমদীঘি উপজেলা সদরের মাঝিপাড়া গ্রামের অর্পুব কুমার সরকার। তিনি বলেন, এই গাড়ি চালাতে জ্বালানি তেল লাগে না। তাই কালো ধোঁয়া নির্গত হয় না, চলেও শব্দহীন, যা শতভাগ পরিবেশবান্ধব। যাত্রীরাও এই গাড়িতে চলে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। সারাদিন পর রাতে টমটমের ব্যাটারি চার্জ দেই। মাসে বিদ্যুৎ বিল খুব বেশী আসে না। আদমদীঘি-আবাদপুকুর রুটের আরেক টমটমচালক উজ্জল হোসেন বলেন, দকোন কর্মসংস্থান না হওযায় টমটম কিনেছি। এটি চালিয়ে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করছি। এতে করে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালভাবে দিন কাটছে।
আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার একটি বড় রেলওয়ে জংশন। এই জংশন স্টেশনের ওপর দিয়ে প্রতিদিন আন্তনগর, মেইল ট্রেন, সাধারণ ট্রেন, মালবাহী ট্রেন মিলে অন্তত ৪০টি ট্রেন চলাচল করে। ১০টি উপজেলার রেলপথের যাত্রীসাধারণ সান্তাহারমুখী। ফলে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী সান্তাহার রেলস্টেশনে নেমে গন্তব্যে যেতে এবং রেলস্টেশন এলাকায় আসতে এই টমটম ব্যবহার করে। সান্তাহার শহরেই প্রায় ৫ শতাধিক টমটম চলে। যাত্রীরা সুলভ ভাড়া আর অল্প সময়ে পরিবহন সেবা পাওয়ায় এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।
টমটমবিক্রেতা সান্তাহার পুর্ব ঢাকা রোডের অটো ট্রাস্ট পয়েন্ট এর সত্বাধীকারি নিপেন্দ্র সরকার নিপেন বলেন, দচায়নার তৈরি ব্যাটারিচালিত টমটম আমদানি করে বেকার যুবকদের মধ্যে কিস্তির মাধ্যমে বিক্রয় করে থাকি।
এলাকার সচেতন মহল ব্যক্তিরা জানান, দচীনের তৈরি টমটম আমদানির ফলে আদমদীঘি উপজেলায় পরিবহনে নতুন দিগন্ত খুলে গেছে। বেকার যুবকেরা টমটম চালালে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করতে পারছে। এদিকে টমটম চালকরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে এই পরিবহনকে রোড পারমিট দেওয়া হোক।