নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মুখোশধারীদের গুলিতে মিজানুর রহমান মিজান (৩৪) নামে এক জামায়াত কর্মী আহত হয়েছেন। গুলি করার আগে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জিনু মার্কেটের মিজান স্টোরে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান।আহত মিজানুর রহমান বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জয়নারায়ণপুর গ্রামের আহাম্মদ উল্যার নতুন বাড়ির আহাম্মদ উল্যাহর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে নিজের মুদি দোকানে বেচাকেনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন মিজান। এ সময় মুখোশ পরা ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দোকানে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে তারা তাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি ছোড়ে। এতে তার পেটের বাঁ পাশে, বাঁ হাত ও বাঁ পায়ের উরুতে গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার (সার্জন) ডা. আসিফ মোহাম্মদ বখতিয়ার বলেন, পেটে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে রোগীর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। এ কারণে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আবু জায়েদ বলেন, মিজান জামায়াতের একজন কর্মী। ২০২০ সালেও নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা চালিয়েছিল। সেসময় মিজানকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল। এবার মুখোশ পরে দোকানে ঢুকে তাকে গুলি করা হয়েছে। হামলাকারীরা মুখোশ পরা থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এ হামলার সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজন জড়িত থাকতে পারেন বলে জানান আবু জায়েদ। তবে হামলাকারীদের পরিচয় ও ঘটনার কারণ সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনও তথ্য জানানো হয়নি।
মিজানের স্বজনরা জানান, এলাকায় প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটে। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা ব্যক্তিরা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, ছররা গুলিতে ওই জামায়াত কর্মী আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।