https://www.a1news24.com
১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:২১

কাউনিয়ায় মানাস নদীতে মরণফাঁদ

বাঁশের সাঁকো, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ, রাস্তার আইডি নেই

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের গোপিডাঙ্গা মৌলভি বাজার এলাকায় মানাস নদীর ওপর নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই দুই পাড়ের ১০ গ্রামের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির আইডি নম্বর না থাকায় নতুন পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ এগোচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, শিক্ষকসহ হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মৌলভি বাজার এলাকায় মানাস নদীর ওপর নির্মিত পাকা সেতুটি একদিকে মারাত্মকভাবে হেলে পড়েছে। বন্যায় সেতুর দুই পাশের সংযোগস্থল ধসে যাওয়ায় স্বাভাবিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করে চলাচল শুরু করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে ইউএসএআইডি ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে, কেয়ার বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে ৩৭ লাখ ২৪ হাজার ১৮৩ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণের কিছুদিন পরই সেতুর একাংশ হেলে পড়ে। এরপর থেকে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন এলাকাবাসী। বর্তমানে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক না থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা দরদি জানান, সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অটোরিকশা, ভ্যান ও ঘোড়ার গাড়ি চলাচল করে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ব্যবহার করছেন সবাই।

স্থানীয় করিমের অভিযোগ, সেতুর বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। কৃষকরা উৎপাদিত ফসল সময়মতো বাজারে নিতে পারছেন না। এতে তাঁরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। রাতের বেলায় সাঁকো পারাপার আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। শিক্ষক আবুল কালাম জানান, সেতুটি সংস্কার ও নতুন করে নির্মাণের জন্য বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি। স্থানীয় মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রতিবছর বন্যায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও এলাকার মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। মাদরাসাছাত্র নাবিলের ভাষ্য, চরের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সমস্যার খবর কেউ রাখেন না।

আরিফা ফুড প্রোডাক্টস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আতাউর রহমান জানান, আমি ব্যাক্তিগত ভাবে অর্থদিয়ে ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষদের নিয়ে মিটিং করে কিভাবে সেতুটিতে যোগাযোগ সাভাবিক করা যায় সে বিষয়ে কাজ করছি।

ইউপি সদস্য হাফিজার রহমান জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য চেয়ারম্যানকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রকৌশল দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে, কিন্তু এখনো কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ এন্তাজুর রহমান জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর সেতুটির রাস্তার কোনো আইডি নম্বর না থাকার বিষয়টি জানতে পারেন। এ কারণে প্রস্তাবনা পাঠানোর পরও কাজ এগোয়নি। বর্তমানে নতুন করে রাস্তার আইডি তৈরির কাজ চলছে। আইডি নম্বর হয়ে গেলে সেতু নির্মাণের কাজ এগোবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত রাস্তার আইডি নম্বর তৈরি করে নতুন পাকা সেতু নির্মাণ করা হোক। এতে ১০ গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সচল হওয়ার পাশাপাশি চরের কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে।

আরো..