আমেরিকা প্রবাসী নিখোঁজ হারুনুর রশিদের সন্ধান চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আজ রোববার বেলা ১১.৩০ মি. রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে, সংবাদ সম্মেলন করেছে। নিখোঁজের বড় মেয়ে: রিতা আক্তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মা শরিফা খানম, আবুল হোসেন ভুইয়া (সাবেক চেয়ারম্যান, ৩নং মাধাইয়া ইউনিয়ন পরিষদ), মাওলানা ফিরোজ আশরাফী প্রধান উপদেষ্টা, মানবকল্যাণ সংস্থা, মো. মঈন খান, চীফ কন্ট্রলার, বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিষদ, ফয়জুল ইসলাম রিফাত সাধারণ সম্পাদক, মাবকল্যাণ সংস্থা, আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংগঠনিক সম্পাদক, মাবকল্যাণ সংস্থা, এডভোকেট এমদাদ হোসেন, অধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. কামরুল ইসলাম ও সোহেল মোল্লা। সভাপতিত্ব করেন মাবকল্যাণ সংস্থার সভাপতি প্রিন্সিপাল শফিউল্লাহ মিয়া।
আমেরিকা প্রবাসী নিখোঁজ হারুনুর রশিদের মেয়ে রিতা আক্তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমরা অত্যন্ত উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও অসহায়ত্ব নিয়ে পরিবারের একমাত্র অভিভাবক, আমার বাবা আমেরিকা প্রবাসী হারুনুর রশিদের জন্য অপেক্ষায় আছি। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কোনো নির্ভরযোগ্য সন্ধান না পেয়ে আমরা চরম মানসিক যন্ত্রণা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমরা আমাদের বাবার সন্ধান চাই। দয়া করে সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ আমার বাবাকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন। আমার বাবা কোন রাজনীতি কিংবা সমাজের কোন কাজে জড়িত নন, তিনি আমেরিকার প্রবাসী। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি সুষ্ঠু ও নিরপে¶ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিলে আমরা আমাদের বাবাকে ফিরে পাবো। বিমানবন্দর থানার সিসিটিভির ফুটেজ ধরে অগ্রসর হলে তার সন্ধান অনেক সহজ হবে।
লিখিত বক্তব্যে রিতা আরও জানান, ২০১৫ সাল থেকে আমরা সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছে। পারিবারিক প্রয়োজন, ছুটি এবং ব্যক্তিগত কাজের কারণে আমরা নিয়মিত বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করি। গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আমার বাবা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টা এসে পৌঁছান। সে সময় আমার মা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। আমি, আগে থেকেই ঢাকায় আমাদের ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলাম। বাবা দেশে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই তিনি ঢাকার বাসায় অথবা গ্রামের বাড়িতে যাবেন এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি ঢাকার বাসায় আসেননি, গ্রামের বাড়িতেও পৌঁছাননি। তাঁর সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এ পরিস্থিতিতে আমার মা গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে আসেন এবং দেশে ফিরে তিনিও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা বাবার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য না পেয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি করি।
জিডির সূত্র ধরে বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজে বাবার বিমান বন্দরে অবতরণ, ইমিগ্রেশন কার্যক্রম এবং বাইরে বের হওয়ার দৃশ্য সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। ফুটেজে বিমানবন্দর থেকে বাবাকে গ্রহণ করতে আসা কয়েকজন ব্যক্তিকেও শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পুলিশ প্রশাসন চাইলে প্রাপ্ত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত বিশ্লেষণ করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
তথ্য অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডে মো. সাগর, শাহিদা আক্তার স্বাথী ও রুসি আক্তারের যোগাযোগের বিষয়টি ধরে অগ্রসর হলে, ১০ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার কলাবাগান ও ধানমন্ডি এলাকায় শাহ আলমের অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বিষয়টিও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানাচ্ছি।
আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, মানবাধিকার সংস্থা কাছে আমাদের দাবি, ১. নিখোঁজ হারুনুর রশিদের সন্ধানে অবিলম্বে কার্যকর ও সমন্বিত অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা ২. বিমানবন্দর থানায় করা সাধারণ ডায়েরিটি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা। ৩. বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ, ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত তথ্য, প্রাসঙ্গিক মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত সংগ্রহ ও সংর¶ণ করে নিরপে¶ভাবে বিশ্লেষণ করলে আসামীদের গ্রেফতার করা সহজ হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।