https://www.a1news24.com
৯ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:২৯

মাগুরায় ইয়াবার ‘আস্তানা’, ২৮ হাজার পিস উদ্ধার

প্রায় ২০ লাখ টাকা, ল্যাপটপ-ওয়াকিটকিসহ আটক ১; অভিযানের আগেই পালালেন কথিত মূলহোতা”

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাগুরায় ২৮ হাজার পিস ইয়াবা, খেলনা পিস্তল, ওয়াকিটকি ও নগদ ১৯ লাখ ৫৮ হাজার ১০০ টাকাসহ রাশেদ শেখ (৪১) নামে একজনকে আটক করেছে এসআরবি-৬ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে মাগুরা সদর পৌরসভার কলেজপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

রাশেদ শেখ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মালিপাড়া গ্রামের মোস্তফা শেখের ছেলে।

অভিযানে ২৮ হাজার পিস ইয়াবার পাশাপাশি একটি খেলনা পিস্তল, টাকা গণনার মেশিন, একটি প্রিন্টার, মাদক বিক্রির নগদ ১৯ লাখ ৫৮ হাজার ১০০ টাকা, চারটি ল্যাপটপ, ওয়াকিটকি ও প্রেসের একটি বুম উদ্ধার করা হয়েছে।

এসআরবি-৬ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাগুরা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়ার ‘স্বপ্ন বিলাস’ ভবনের চতুর্থ তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন ইয়াবা ও মাদক ব্যবসার কথিত মূলহোতা দ্বীপ্ত কুমার বিশ্বাস ওরফে সুমন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাসায় অভিযান চালায় এসআরবি-৬-এর সদস্যরা।

অভিযানকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্বীপ্ত কুমার বিশ্বাস ওরফে সুমন পালিয়ে যান বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ওই বাসা থেকে রাশেদ শেখকে আটক করা হয়।

অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, নগদ টাকা ও মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে তদন্ত চলছে। বিশেষ করে বাসাটিতে কারা নিয়মিত যাতায়াত করতেন এবং মাদক কারবারের সঙ্গে আর কারা জড়িত—সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এসআরবি-৬ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ইমামীম মুবিন সরকার জানান, এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধার হওয়া মাদক, নগদ টাকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম এসআরবি হেফাজতে রয়েছে।

বিপুল ইয়াবা, সঙ্গে নগদ টাকা

একটি বাসা থেকে একসঙ্গে ২৮ হাজার পিস ইয়াবা ও প্রায় ২০ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় মাদক কারবারের পরিধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে টাকা গণনার মেশিন, একাধিক ল্যাপটপ, প্রিন্টার ও ওয়াকিটকি উদ্ধারের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামগুলোর ব্যবহার ও অর্থের উৎস যাচাই করা হলে মাদক কারবারের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

তবে আটক রাশেদ শেখের সঙ্গে কথিত মূলহোতা দ্বীপ্ত কুমার বিশ্বাসের সম্পর্ক কী এবং উদ্ধার হওয়া মাদক ও অর্থের প্রকৃত মালিক কে—এসব বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

আরো..