সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হাম ও এর উপসর্গে দেশে শিশুর মৃত্যু থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সময়ে ৫৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
চলতি বছর নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং এর উপসর্গ নিয়ে ৮৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই মিলিয়ে গেল ছয় মাসে ৯৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম, খুলনা এবং সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গেল ১৫ মার্চ থেকে হামের তথ্য প্রকাশ করে আসছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪০১ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৫৫ জন।
এছাড়া রাজশাহীতে ৯২, চট্টগ্রামে ৬৫, বরিশালে ৫৬, ময়মনসিংহে ৭৫, খুলনায় ৩৬ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গেল ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ৪৩ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৯৫৪ জন।
ঢাকা বিভাগে ভর্তি ৩১৯ জন, রাজশাহীতে ২৩, সিলেটে ১১২, চট্টগ্রামে ২৩৮, বরিশালে ১১৬, ময়মনসিংহে ৪৮, খুলনায় ৮৫, রংপুরে ১৩ জন।
এ নিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৪৪ হাজার ১৬৮ জনে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭২ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।
আর দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৪৮। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৬৯৬।
সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে অনেকেই হাসপাতালে যান। তবে সবার নমুনা পরীক্ষা না হওয়ায় হামের বিস্তৃতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন। এ ক্ষেত্রে সরকারি হিসাবের উপরই পরিসংখ্যানের জন্য ভরসা করতে হচ্ছে।
টিকা দেওয়ার পরেও হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন শিশুর প্রাণহানি হচ্ছে। সংক্রমণও কমছে না।
বিশেষজ্ঞরা মোটা দাগে হামের প্রকোপ না কমার দুটি কারণ বলেছেন। এগুলো হল-অনেক শিশুর টিকা না পাওয়া এবং হাম মোকাবিলায় ‘গাইডলাইন’ বা নির্দেশিকা না করা।
হাম পরিস্থিতি এতদিন পর্যন্ত লম্বা হওয়া এবং মৃত্যু ঠেকাতে না পারার বিষয়ে তারা সরকারের অবহেলা দেখছেন।
তারা বলছেন, টিকা দেওয়ার পর এখন অ্যান্টিবডি যাচাই করা উচিত, আদতেই টিকা পাওয়া শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধের প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি হল কিনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময় মতো সঠিক সিদ্ধান্ত মাঠে বাস্তবায়ন করা গেলে হামের প্রকোপ এ পর্যায়ে আসত না।