https://www.a1news24.com
২৭শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:১৯

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আলাউর রহমান চৌধুরী আর নেই

মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’র শোক প্রকাশ

৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক,১৯৬৮/৬৯ এর ১১দফা আন্দোলনে মৌলভীবাজার মহকুমা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা, মৌলভীবাজার মহকুমা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক জেনারেল সেক্রেটারী,ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, ৯০ এর গন আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক,মৌলভীবাজার জেলা বাকশাল এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি,এবং মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এর অন্যতম উপদেষ্টা একসময়ের প্রথম শ্রেনীর কনট্রেকটার বিশিষ্ট সমাজসেবক, রাজনগর এর কৃতিসন্তান আলাউর রহমান চৌধুরী ২৫ শে আগস্ট মঙ্গলবার রাত

৮.২০মিনিটের সময় বাংলাদেশে মৌলভীবাজার শহরের কাজিরগাঁওস্থ নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন,) মৃত্যুকালে স্ত্রী সহ দু’ছেলে ও এক মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন সহ শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৭৮ বছর।

মরহুমের প্রথম জানাজার নামাজ ২৬ শে আগষ্ট বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টায় কাজিরগাঁও টিকর বাড়ীর টিলায় ও রাজনগর ভাঙ্গারহাট প্রাইমারি স্কুল মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে দূপুর ২ টায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মরহুম এর পুত্র তাসনিম চৌধুরী নাঈম পরিবারের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহু রাব্বুল আলামিন যেনো ওর বাবাকে জান্নাতবাসী করেন এই দোয়া করার জন্য সবার প্রতি বিনীতভাবে অনুরুধ জানিয়েছেন।

তাঁর মৃত্যুতে মৌলভীবাজারের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুসংবাদে দেশ ও প্রবাস থেকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী, সাবেক ছাত্রনেতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এদিকে মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’এর উপদেষ্টা ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মান্নান, মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন অব ওয়ালর্ড ওয়াইড এর ফাউন্ডার্স প্রেসিডেন্ট ও গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র কেন্দ্রীয় কনভেনর মোহাম্মদ মকিস মনসুর, মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এর সহ সভাপতি জয়নাল আবেদিন খান, সাধারণ সম্পাদক এম মুহিবুর রহমান মুহিব, ও ট্রেজারার মোহাম্মদ মুজিব মনসুর সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এক শোকবার্তায় মৌলভীবাজার জেলার বিশিষ্ট সমাজসেবক সদা ন্যায়পরায়ণ, সবার পরিচিত হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব, রাজনগর এর কৃতিসন্তান মরহুম আলাউর রহমান চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকাবহ পরিবারবর্গ এর প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

শোকবার্তায় গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র কেন্দ্রীয় কনভেনর ও ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মকিস মনসুর,বলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আলাউর রহমান চৌধুরী ছিলেন একজন সৎ, নির্লোভ ও পরোপকারী লোক । তাঁর মৃত্যুতে মৌলভীবাজারবাসী হারালেন আন্দোলন-সংগ্রামের এক প্রবীণ সহযোদ্ধাকে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, ছাত্র আন্দোলনে ভূমিকা এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অবদান স্থানীয় ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবন, সততা, মানবিকতা ও সমাজসেবামূলক কাজের প্রতি নিবেদন আমাদের হৃদয়ে চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে উল্লেখ করে মহাণ আল্লাহু রাব্বুল আলামিন যেনো উনাকে জান্নাতবাসী করেন এই দোয়া করার জন্য দেশে বিদেশে বসবাসকারী সবার প্রতি বিনীতভাবে অনুরুধ জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ভাংগারহাট গ্রামে জন্মগ্রহনকারী মরহুম ইসমাইল আলী চৌধুরীর সু’সন্তান আলাউর রহমান চৌধুরী গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহন করে রাজনগর পোরটিয়াস উচছ বিদ‍্যালয়ে ভর্তি হোন। এখান থেকে মৌলবীবাজার সরকারী স্কুলে চলে আসেন এবং এসএসসি পাশ করে মৌলভীবাজার কলেজে কলা বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে এইচ এস সি এবং ডিগ্রি পাশ করে সেন্টাল ল’ কলেজে আইন পডতে ভর্তি হোন। স্কুল জীবন থেকেই পু্র্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সাথে সংপৃক্ত ছিলেন। কর্মদক্ষতায় সংগঠনের বিভিন্ন পদে আসীন ছিলেন। পর্যায় ক্রমে মৌলভীবাজার মহকুমা ছাত্রইউনিয়নের জেনারেল সেক্রেটারীও প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হোন। ১৯৭০সালে ডিগ্রি পাশ করে ন‍্যাপে যোগদান করেন।

আলাউর রহমান চৌধুরীর রাজনৈতিক ও ছাত্রজীবনের সঙ্গে মৌলভীবাজারের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে। ঐতিহাসিক বিভিন্ন বর্ণনায় দেখা যায়, তিনি মৌলভীবাজার কলেজের ১৯৬৪ সালের ছাত্রসংসদের মিলনায়তন সম্পাদক ছিলেন। সে সময় মৌলভীবাজারে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগেও তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন। শহীদ মিনার নির্মাণের সেই সময়কার নানা ঘটনা তিনি পরবর্তী সময়ে স্মৃতিচারণ করে তুলে ধরেছেন।

ষাটের দশকের শেষভাগে স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন যখন তীব্র হয়ে ওঠে, তখন ছাত্রসমাজের আন্দোলনেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক উত্তাল সময়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বস্থানীয় কর্মী হিসেবে তিনি রাজপথের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন। তিনি অনরগল বক্তৃতা দিয়ে অনায়াসে মানুষের মন জয় করতে পারতেন। কলেজ জীবনে তিনি ছিলেন সকলের প্রিয় নেতা।

১৯৬৯-৭০ সালের উত্তাল রাজনৈতিক সময়ে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের একজন সক্রিয় ও তুখোড় নেতা হিসেবে আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি সংগঠকের অগ্রনী ভুমিকা পালন করেন।অত‍্যন্ত ভদ্র ,সদালাপি,এবং ভালো মনের মানুষ ছিলেন।

আরো..