এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার পাটগাতী-টু বাগেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসা বাঁশের হাট এখন জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের দু’পাশে অবাধে বাঁশ বেচাকেনা এবং যানবাহনে বাঁশ ওঠানো-নামানোর কারণে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করছেন পথচারী ও যানবাহনের চালকরা। ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন পাটগাতী-টু বাগেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে বহু বছর ধরে বাঁশের হাট বসে আসছে। এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে বাঁশ নিয়ে আসেন এবং প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বাঁশ কেনাবেচা হয়। তবে হাট পরিচালনায় প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় জনসাধারণকে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
এ সড়কটি চিতলমারীসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন শত শত ছোট-বড় যানবাহন এবং হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু বাঁশ বিক্রির পর সেগুলো ট্রাক, পিকআপ বা অন্যান্য পরিবহনে তোলার সময় প্রায়ই সড়কের একটি বড় অংশ দখল হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে পুরো রাস্তা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যস্ত সময়ে রাস্তার ওপর বাঁশ ওঠানো-নামানোর কারণে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। দ্রুতগতির বাস, ট্রাক কিংবা মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এটি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। সামান্য অসতর্কতা কিংবা চালকের এক মুহূর্তের ভুলেই ঘটতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।
ভ্যানচালক জাহাঙ্গীর শেখ বলেন, “প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। বাঁশ গাড়িতে তোলার সময় প্রায়ই রাস্তা আটকে যায়। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ভয়ও থাকে।”
অটোরিকশা চালক ইমন শেখ বলেন, “বাঁশের হাট থাকতেই পারে, কিন্তু সেটি অবশ্যই সড়ক থেকে নিরাপদ দূরত্বে হওয়া উচিত। রাস্তার ওপর বা খুব কাছে বাঁশ ওঠানো-নামানো হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
অনেক পথচারীও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, হাটের কারণে শুধু যানজটই নয়, শিশু, বৃদ্ধ ও সাধারণ পথচারীদের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে। তাই দ্রুত হাটটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর অথবা সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, “সড়ক থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বাঁশের বেচাকেনা ও ওঠানো-নামানোর বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।”
স্থানীয়দের মতে, আঞ্চলিক মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে অপরিকল্পিতভাবে হাট পরিচালনা শুধু যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে না, বরং বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়িয়ে তুলছে। তাই জনস্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।