https://www.a1news24.com
১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:৫৯

মে মাসে দেশে ৬১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২২ জন নিহত: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

গত মে মাসে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দেশে ৬১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৫২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। আজ (শনিবার, ১৩ জুন) সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ মাসে রেলপথে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত, ২৯ জন আহত হয়েছে । তথ্যমতে, নৌ পথে ২১ টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ জন, আহত ১৫ জন ও ৭ জন নিখোঁজ রয়েছে।

সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৬৭৬ টি দুর্ঘটনায় ৬৭১ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৯৬ জন আহত হয়েছে। এ সময়ে ২২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩১ জন নিহত, ২১৯ জন আহত হয়েছে। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ, নিহতের ৩৭ দশমিক ১৩ শতাংশ ও আহতের ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ।

এ মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে ১৮০টি।সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮৫ জন নিহত ও ৫৫৮ জন আহত হয়েছে, সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে ২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকৃত হতাহতের ঘটনা আরও বেশ কয়েকগুণ বাড়তে পারে। যা সংবাদপত্রে স্থান না পাওয়ায় তুলে আনা সম্ভব হয়নি বলেও জানায় সংস্থাটি।

সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ৬ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৩৯ জন চালক, ১২১ জন পথচারী, ১১৩ জন পরিবহন শ্রমিক, ৯৬ জন শিক্ষার্থী, ৮ জন শিক্ষক, ৯৩ জন নারী, ৬৮ জন শিশু, ২ জন চিকিৎসক, ৩ জন সাংবাদিক, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১ আইনজীবী এবং ৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে ১৩৯ জন চালক, ১২১ জন পথচারী, ১১৩ জন পরিবহন শ্রমিক, ৯৬ জন শিক্ষার্থী, ৯৩ জন নারী এবং ৬৮ জন শিশুর পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ১৩৬ জন চালক, ১১০ জন পথচারী, ৭৩ জন শিক্ষার্থী, ৬৯ জন নারী, ৫৯ জন শিশু এবং ৪৯ জন পরিবহন শ্রমিক রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনায় জড়িত ৯৭৫টি যানবাহনের মধ্যে ২৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৩ দশমিক ১০ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ বাস, ১২ দশমিক ৯৭ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক এবং ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিল।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই মাসে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ৬৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫ দশমিক ২২ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০ দশমিক ৪৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০ দশমিক ৮১ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে-

১. জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিক্সা, অটোরিক্সা অবাধে চলাচল।

২. জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং, সড়কবাতি না থাকায় হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসা।

৩. সড়কে মিডিয়ান বা রোড ডিভাইডার না থাকা, সড়কে গাছপালায় অন্ধবাঁকর সৃষ্টি।

৪. মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, যানবাহনের ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা।

৫. উল্টোপথে যানবাহন, সড়কে চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন।

৬. অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রীবহন।

৭. বেপরোয়া যানবাহন চালানো এবং বিরামহীন ও বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো।

৮. বৃষ্টিতে সড়কের মাঝে গর্তের সৃষ্টি, ভাঙ্গছেরা সড়ক।

৯. অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ বাসের ছাদে, ট্রাকের ছাদে, পণ্যবোঝাই ট্রাকের উপর যাতায়াতে বাধ্য হওয়ার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে।

সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে সংগঠনটি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। তাদের মতে, উন্নত বিশ্বের আদলে আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক ব্যবস্থাপনা চালু করা, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা ও লাইসেন্স নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সার্ভিস লেন, ফুটপাত ও নিরাপদ পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও নিয়মিত রোড সেফটি অডিট, ফিটনেস সনদ প্রদানের পদ্ধতি আধুনিকায়ন, মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহন অপসারণ, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক ট্রেনিং অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া পরিবহন খাতে মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

আরো..