https://www.a1news24.com
২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৩:১৩

মানব কল্যাণ পরিষদ চেয়ারম্যানের উপর হামলা ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

ষ্টাফ রিপোর্টার ঃ সফল ও শ্রেষ্ঠ মানবিক সংগঠন মানব কল্যাণ পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ মান্নান ভূঁইয়াকে মব সৃষ্টি করে নারায়ণগঞ্জ চাষাড়ায় অতর্কিত হামলা করে অপহরণের চেষ্টা করে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় ৯ জনকে আসামী করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং- ৩৬(৫)২৬। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় শংকিত ও আতঙ্কিত রয়েছে ভুক্তভোগী মামলার বাদী।

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, গত ৫ মে সকাল ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়াস্থ বিকেএমইএ ভবনের সামনে সাংবাদিক শাহ আলম তালুকদারের সাথে মানব কল্যাণ পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ মান্নান ভূঁইয়া কথা বলতে বলতে হেঁটে যাচ্ছিল। এমন সময় উক্ত পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে আসামী কামাল প্রধান, আলমগীর, সুলতান মাহমুদ, হাফিজুল প্রধান, রফিক শেখ, নাসিমা বেগম, অন্তরা ইসলাম নিপা, জসিম উদ্দিন মুন্সি ও মোশারফ হোসেন সংঘবদ্ধ হয়ে ভেজাইল্যা সুলতান মাহামুদের নির্দেশে মান্নান ভূঁইয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে শার্টের কলার ধরে এলোপাথারি কিল-ঘুষি মারে এবং অন্যান্য আসামীরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে নীলাফুলা যখম করে। এরপর মাদকাসক্ত ছিনতাইকারী আলমগীর ঝাপটে ধরে পকেটে থাকা নগদ প্রায় ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় মব সৃষ্টি করে অন্যান্য আসামীরা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং অপহরণের উদ্দেশ্যে টেনে হিচড়ে সিএনজিতে উঠানোর চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়। এসময় কোন উপায়ন্তর না পেয়ে অপরাধীদের কবল থেকে উদ্ধারের জন্য ৯৯৯ এ ফোন করে মান্নান ভূঁইয়া পুলিশের সহযোগিতা কামনা করে। তখন তার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ভিক্টোরিয়ায় জরুরী বিভাগে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। আসামীরা ঘটনার সময় মান্নান ভূঁইয়াকে মব তৈরি করে ৪ লক্ষ টাকা দাবী করে এবং দাবীকৃত চাঁদার টাকা না তার পরিবারের লোকজনের ক্ষয়ক্ষতি করবে এবং মিথ্যা মামলা মোকদ্দমায় হয়রানী করাসহ পরবর্তীতে অপহরণ করে হত্যা করবে বলে হুমকি প্রদান করে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে চরিত্রহরণ করবে বলেও হুমকি দেয় সন্ত্রাসী প্রতারক চক্রটি। আসামীরা নারায়ণগঞ্জের চিহ্নিত প্রতারক, চাঁদাবাজ ও মামলাবাজ হিসেবে পরিচিত। উপরোক্ত ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় ৯ জনকে চিহ্নিত করে আরও অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জনকে আসামী করে ঘটনার দিন অভিযোগ করা হলেও মামলাটি হয় গত ২১ মে। ঘটনার সময় আশে পাশের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও পুলিশের আচরন অস্বাভাবিক। ভুক্তভোগী মান্নান ভূঁইয়া আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ভিডিও ফুটেজ দেখে সত্যতা যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবী জানালেও পুলিশ তেমন একটা ব্যবস্থা নেয়নি। সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনসুর ঘটনার শুরু থেকে বর্তমানঅব্দি পর্যন্ত আসামীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে রহস্যজনক কারণে আসামীদের গ্রেফতার করছে না এবং উল্টো বাদী মান্নান ভূঁইয়াকে মিথ্যা মামলা মোকাদ্দমায় ফাসিয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। অন্যদিকে আসামীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে মানহানী করছে এবং অপপ্রচার চালাচ্ছে যার কারণে সাইবার ক্রাইমে সংশ্লিষ্ট থানায় ভেজাইল্যা সুলতান মাহামুদ, বাটপার কামাল প্রধান, মাদকাসক্ত আলমগীর ও হাফিজের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের কাছে ঘটনাটি অবগত করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস প্রদান করে।

আরো..