স্পোর্টস ডেস্ক: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান! মরুর বুকে আজ থেকে শুরু হচ্ছে এশিয়ার ক্রিকেটের মহাযুদ্ধ এশিয়া কাপ ২০২৫। যেখানে আটটি দল দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে লড়বে শিরোপার জন্য। উদ্বোধনী ম্যাচে আজ রাত ৮:৩০টায় মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান ও হংকং।
এবারের এশিয়া কাপের আয়োজক দেশ ভারত। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের টানা-পোড়েনের কারণে দুই দেশের কেউই তাদের প্রতিপক্ষ দেশে গিয়ে খেলতে রাজি নয়। তাই নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে আমিরাতকে বেছে নেওয়া হয়েছে। দেশটির জায়েদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আবু ধাবি ও দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে সবগুলো ম্যাচ।
এশিয়ার টেস্ট খেলুড়ে পাঁচ দেশ- বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সঙ্গে এবার এশিয়া কাপে খেলবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও হংকং। গত বছর এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল আয়োজিত এসিসি প্রিমিয়ার কাপ থেকে এশিয়া কাপের টিকেট পেয়েছে এই তিন দল।
১৯৮৪ সালে তিন দল নিয়ে যাত্রা শুরু করা এশিয়া কাপ আজ এশিয়ার ক্রিকেট দাপটের প্রতীক। ভারতের ঘরে সবচেয়ে বেশি ৮টি শিরোপা। শ্রীলঙ্কা আছে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন হয়ে ঠিক পেছনে। বাংলাদেশ এখনো অধরা শিরোপার খোঁজে, কিন্তু ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তিনবার।
শুরুতে এশিয়া কাপ ছিল ওয়ানডে ফরম্যাটের টুর্নামেন্ট। তবে ২০১৬ সাল থেকে বদলে যায় এটি। তখন সিদ্ধান্ত হয় যে, সামনে যে ফরম্যাটের বিশ্বকাপ থাকবে, এশিয়া কাপও হবে সেই ফরম্যাটে। তাই ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে এবারের এশিয়া কাপ হবে টি-টোয়েন্টিতে।
২০১৬ সালে প্রথম আয়োজিত হয় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এশিয়া কাপ। সেবার ফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। আর ২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের সবশেষ এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছে শ্রীলঙ্কা। ২০২৩ সালে হয়েছিল এশিয়া কাপের সবশেষ আসর। ওয়ানডে টুর্নামেন্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত।
মরু দেশের খেলা মানেই শুধু প্রতিপক্ষ নয়, সঙ্গে লড়াই করতে হবে প্রকৃতির বিরুদ্ধেও। প্রচণ্ড গরম, আর্দ্রতা ও ম্যাচের শেষ ভাগে পড়া শিশির বোলারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই টস জয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্ব ক্রিকেটপ্রেমীদের বাড়তি উত্তেজনার নাম ভারত-পাকিস্তান। এবারের গ্রুপ পর্বেই দেখা যাবে এই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হাইভোল্টেজ ম্যাচ। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা ফিরে পেতে চায় হারানো ফর্ম, আর আফগানিস্তান ইতোমধ্যেই নিজেকে প্রমাণ করেছে বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ হিসেবে।
ওমান, হংকং ও আয়োজক সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়তো শিরোপার দাবিদার নয়, তবে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে। বিশেষ করে হোম ভেন্যুতে খেলতে নামা আমিরাত চায় দর্শকদের সামনে চমক দিতে। মনে রাখতে হবে, এই দলের বিপক্ষেই সিরিজ হেরেছিল বাংলাদেশ।
স্পটলাইটে যারা- টুর্নামেন্টে অংশ নেবে ৮ দেশের বেশ কয়েকজন সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার। ভারতের হয়ে এরই মধ্যে ১৭ ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি করে ফেলা অভিষেক শর্মার ওপর নজর থাকবে সবার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২৪ বছর বয়সী ব্যাটারের স্ট্রাইক রেট ১৯৩.৮৪! এবারই প্রথম বড় কোনো আসরে খেলবেন এই ওপেনার।
এছাড়া বাংলাদেশের ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন, আফগানিস্তানের রহস্য স্পিনার আল্লাহ্ মোহাম্মদ গাজানফার, পাকিস্তানের পেসার সালমান মির্জা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের অধিনায়ক ও ওপেনার মোহাম্মদ ওয়াসিম, হংকংয়ের অধিনায়ক মুর্তাজাও আলো কেড়ে নিতে পারেন।
প্রাইজমানি- এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য থাকছে ৩ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকার কাছাকাছি। আর রানার্স-আপ দল পাবে দেড় লাখ ডলার।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশনে যে দল সবচেয়ে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে পারবে, তারাই টিকে থাকবে শেষ পর্যন্ত। ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনা, বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার লড়াই আর আফগানিস্তানের বিস্ফোরক ক্রিকেট। সব মিলিয়ে এবারের এশিয়া কাপ হতে যাচ্ছে দারুণ রোমাঞ্চকর।