https://www.a1news24.com
৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২:২১

১০ জনের ইংল্যান্ডের রোমাঞ্চকর জয়, মেক্সিকোকে হারিয়ে সেমিফাইনালে থ্রি লায়ন্স

মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে নাটকীয়তায় ভরা এক কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের বড় একটি সময় ১০ জন নিয়ে খেলেও অসাধারণ রক্ষণ, জুড বেলিংহামের জোড়া গোল এবং অধিনায়ক হ্যারি কেইনের একটি গোল থ্রি লায়ন্সকে এনে দেয় গুরুত্বপূর্ণ জয়।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে বিপজ্জনকভাবে চ্যালেঞ্জ করায় ইংল্যান্ডের ডেকলান রাইস হলুদ কার্ড দেখেন। এরপর বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ১৫তম মিনিটে রাউল হিমেনেসের শক্তিশালী হেড দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয় ইংল্যান্ড। ৩৬তম মিনিটে বুকায়ো সাকার নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জুড বেলিংহাম। মাত্র দুই মিনিট পর দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে আবারও জালের দেখা পান এই মিডফিল্ডার। হ্যারি কেইনের পাস কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি।

দুই গোল হজমের পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায় মেক্সিকো। ৪২তম মিনিটে হুলিয়ান কুইনোনেস দারুণ এক ভলিতে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করেন। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তার চতুর্থ গোল, যা বিশ্বকাপের এক আসরে কোনো মেক্সিকান ফুটবলারের যৌথ সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করে।

বিরতির পর ম্যাচে আসে সবচেয়ে বড় মোড়। ৫২তম মিনিটে জারেল কোয়ানসাহর ট্যাকল ভিএআরে পর্যালোচনার পর সরাসরি লাল কার্ডে পরিণত হয়। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইংল্যান্ড।

সংখ্যায় পিছিয়ে পড়লেও আক্রমণে ধার কমায়নি থ্রি লায়ন্স। ৫৮তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনকে বক্সের ভেতর ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। দুই মিনিট পর স্পট কিক থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন হ্যারি কেইন।

এরপর ম্যাচে ফেরার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালায় মেক্সিকো। ৬৮তম মিনিটে ভিএআরের সহায়তায় পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করেন রাউল হিমেনেস। এতে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-২ এবং ম্যাচে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

শেষ ২০ মিনিটে ইংল্যান্ড পুরোপুরি রক্ষণাত্মক কৌশল নেয়। কোচ টমাস টুখেল একের পর এক পরিবর্তন এনে রক্ষণভাগ আরও শক্তিশালী করেন। ড্যান বার্ন, জেড স্পেন্স ও জন স্টোনস গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একাধিক আক্রমণ প্রতিহত করেন। গোলবারের নিচে জর্ডান পিকফোর্ডও ছিলেন অনবদ্য।

অতিরিক্ত ১১ মিনিটে মেক্সিকো একের পর এক আক্রমণ চালালেও ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। শেষ মুহূর্তে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া বিপজ্জনক পরিস্থিতিও সফলভাবে সামাল দেয় থ্রি লায়ন্স।

রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে মেতে ওঠেন ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা। কঠিন পরিস্থিতিতে ১০ জন নিয়ে দুর্দান্ত লড়াই করে ৩-২ গোলের জয় নিশ্চিত করে তারা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়।

আরো..