https://www.a1news24.com
৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ২:২৬

এশিয়া-প্যাসিফিক এআই অলিম্পিয়াডে স্বর্ণজয়ী বাংলাদেশ দলকে সংবর্ধনা প্রদান

প্রথমবারের মতো আয়োজিত এশিয়া-প্যাসিফিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অলিম্পিয়াডে (এপিওএআই ২০২৬) ইতিহাস গড়ে ৩টি স্বর্ণপদক অর্জন করা বাংলাদেশ দলকে শনিবার (৪ জুলাই) সংবর্ধনা জানানো হয়েছে। রাজধানীর পান্থপথে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন), যাতে সহযোগিতায় ছিল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ।

চীন, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান ও ইরানের মতো প্রযুক্তিতে শীর্ষস্থানীয় দেশসহ এই অঞ্চলের মোট ১৮টি দেশের ১২৯ জন প্রতিযোগীর সঙ্গে লড়াই করে বাংলাদেশের তিন শিক্ষার্থী স্বর্ণপদক অর্জন করে। প্রতিযোগিতার মাত্র ১০টি স্বর্ণপদকের মধ্যে ৩টিই আসে বাংলাদেশের ঝুলিতে, যা এই আসরে অংশগ্রহণকারী যেকোনো দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশের হয়ে এই গৌরব বয়ে আনে হোমনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবিব শাহরিয়ার, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির মো: সাইদুজ্জামান আরাফ এবং নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ত্রিদিব রায় আর্য। আন্তর্জাতিক এই আসরের চূড়ান্ত র‍্যাংকিংয়ে তারা যথাক্রমে ৪র্থ, ৫ম ও ৯ম স্থান অর্জন করে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বর্ণপদকজয়ী তিন শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সম্মানজনক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অন্য প্রতিযোগী, দলের কোচ, মেন্টরদেরও সম্মাননা জানানো হয়।

অতিথিদের বক্তব্য
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাটাসফট সিস্টেমের প্রেসিডেন্ট এম মনজুর মাহমুদ, মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আনিস রহমান ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের চেয়ারম্যান মো. সারোয়ার হোসেন মোল্লাহ, বিজ্ঞান চিন্তার নির্বাহী সম্পাদক আবুল বাসার। এছাড়া মাইক্রসফটের এআই লিড সাদিদ হাসান ও সৌদিআরবের এআই লিড ড. এহসানুল হক ভিডিও বার্তায় পদকজয়ীদের শুভেচ্ছা জানান।

ডাটা সফট সিস্টেমের প্রেসিডেন্ট এম মনজুর মাহমুদ বিজয়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন,সব সময় বড় স্বপ্ন দেখবে। জীবন একটি বড চ্যালেঞ্জ। এডাপ্টিবিলিটি হচ্ছে সামনের দিনের গেম চেঞ্জার। যারা তাড়াতাড়ি শিখতে পারে, যুগের সাথে সাথে নিজেদেরকে এডাপ্ট করতে পারবে তাঁরা হবে সামনের দিনের আমাদের ভবিষ্যৎ।

মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আনিস রহমান বলেন,[ তোমরা হচ্ছে সামনের দিনের ফিউচার। তোমরা এতো ভাল পারফর্মেন্স করছো যে এটা অবিশ্বাস্য। তোমরা যদি এরকম করে যেতে পারো তাহলে ভবিষ্যৎ তোমাদের মনে রাখবে।

বাংলাদেশ দলের কোচ ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এসোসিয়েট প্রফেসর ড. মো: আজম খান বলেন,[বাংলাদেশ দলের এই ফলাফলের পিছনের দেশে বিদেশের অনেক মেন্টরের অবদান রয়েছে। তাদের এই ডেডিকেশনের ফলে বাংলাদেশ দলের এই ফলাফল সম্ভব হয়েছে। তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

সংবর্ধিতদের অনুভূতি
সংবর্ধনা পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে স্বর্ণপদকজয়ী লাবিব শাহরিয়ার বলে,এই অলিম্পিয়াড চলাকালীন আমার জীবনে বেশ কিছু সমস্যা চলছিল। কিন্তু দেশের প্রতিনিধিত্ব করার ব্যাপারে আমি কোনো আপশ করিনি। সবার আগে ছিল আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব। দেশের জন্য এই সাফল্য আনতে পেরে আমি গর্বিত।

স্বর্ণপদকজয়ী মো: সাইদুজ্জামান আরাফ বলে,বাংলাদেশ পারে বাংলাদেশ করে, বাংলাদেশ করবে। লেগে থাকলে কন কিছুই অসম্ভব ন্য। সেটাই আমরা করে দেখানো চেষ্টা করে গেছি। এই ফলাফল সামনের দিনে আমাদেরকে আরও ভাল করার জন্য উৎসাহ দিবে।

স্বর্ণপদকজয়ী ত্রিদিব রায় আর্য এর মা বলে,আমারদের সোনার ছেলেরা বিশ্বের অনেকগুলো দেশের সাথে প্রতিযোগিতা করে এই সাফল্য নিয়ে এসেছে। এটা শুধু অভিভাবক হিসেবে আমাদেরকে না পুরো দেশকে গর্বিত করেছে।

প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাস থেকে বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম শুরু হয়ে মে মাসে প্রথমার্ধে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে আঞ্চলিক পর্ব ও ১৬ মে বিইউবিটি-তে জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০–২৩ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত জাতীয় সিলেকশন ক্যাম্পের মূল্যায়নের পর এই দল নির্বাচন করা হয়।

গত ১৩ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (আইআইটি) থেকে অনলাইনে ভিডিও প্রক্টরিং ও স্ক্রিন রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় বাংলাদেশ দলের ৮ জন শিক্ষার্থী। ৬ ঘণ্টার এই প্রতিযোগিতায় বোরিয়াম নামক প্ল্যাটফর্মে ৪টি পৃথক মেশিন লার্নিং সমস্যার সমাধান করেন প্রতিযোগীরা।

প্রতিবছরের মত এবারও বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)। প্লাটিনাম স্পন্সর ও জাতীয় পর্বের হোস্ট ছিল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) এবং পাওয়ার্ড বাই পার্টনার ছিল রিভ চ্যাট। গোল্ড স্পন্সর হিসেবে ছিল ব্রেইন স্টেশন ২৩, সিলভার স্পন্সর মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশ ও ক্রিয়েটিভ আইটি, ব্রোঞ্জ স্পন্সর বিটনা এবং নলেজ পার্টনার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (আইআইটি)। ম্যাগাজিন পার্টনার ছিল কিশোর আলো ও বিজ্ঞান চিন্তা, টিভি পার্টনার দীপ্ত টিভি এবং অন্যান্য পার্টনার হিসেবে ছিল বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি), রকমারি ডট কম ও জাদু পিসি।

আরো..