আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা নীতিকে ‘ফরমালডিহাইড ফর্মুলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যা উপত্যাকাটিতে শান্তি নয় বরং মৃতের সংখ্যা বাড়াতে পারে। নেতানিয়াহুর এমন নীতির সমালোচনা করে একটি মতামত কলাম প্রকাশ করেছে হারেৎজ। সেখানে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনিদের সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে যে কৌশল নিয়েছেন, তা ইসরাইলের সমাজকে আরও আগ্রাসী ও অহংকারী করে তুলছে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশটির জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করছে।
নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘাতকে ‘বর্বরতা বনাম সভ্যতার সংঘাত’ হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু বাস্তবে এই বিভাজন ভেঙে পড়ছে। ইসরাইল কি সত্যিকার অর্থেই ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নেতানিয়াহু কি ফিলিস্তিনিদের ‘ফিন’ জাতির মতো শান্ত ও সভ্য করতে চান? নাকি তাদের ‘অ-ফিন’ হিসেবে থাকাটাই ইসরাইলের জন্য সুবিধাজনক বলে মনে করেন, যাতে কোনো সমাধান না করার অজুহাত পাওয়া যায়?
নেতানিয়াহু মনে করেন সময় ইসরাইলের পক্ষে আছে। কিন্তু এই ধারণা একটি বিপজ্জনক ভ্রম ছাড়া আর কিছুই নয়। গাজায় ইসরাইলের প্রতিটি কঠোর আঘাত ফিলিস্তিনিদের জয়ী করছে। কারণ, দুর্বলদের আত্মত্যাগই তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। যত বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হচ্ছে, গাজায় ক্ষুধা ও দুর্ভোগ বাড়ছে, বিশ্বজুড়ে ইসরাইল ততই দুর্বল ও আগ্রাসী শক্তি হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও ইসরাইলের সময় ফুরিয়ে আসছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার সমালোচনা করেছেন কলামিস্ট ক্যারোলিনা ল্যান্ডসম্যান। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্ম ইসরাইলের ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। শুধু ডেমোক্রেট নয়, রিপাবলিকানদের মধ্যেও এই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
নেতানিয়াহুর এই নীতি ইসরাইলি সমাজের জন্য বিপদ ডেকে আনছে। ইহুদি আধিপত্য বাড়ছে এবং ফিলিস্তিনিদের পরিচয় কেবল ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই নীতি কেবল সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করবে, কিন্তু কোনো সমাধান দেবে না। ফরমালডিহাইড যেমন কেবল মৃতদেহ সংরক্ষণ করে, নেতানিয়াহুর কৌশলও তেমনি কেবল ‘মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি’ করছে। ল্যান্ডসম্যান সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইসরাইলের এই আত্মঘাতী যাত্রার কাউন্টডাউন বা ক্ষণগণনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।