https://www.a1news24.com
,

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার: কীটনাশক বিক্রেতাসহ নারী-পুরুষ ৩ জন গ্রেপ্তার

বনরক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযান, মোংলা থেকে আটক দুই জেলে ও বিষ বিক্রেতা ব্যবসায়ী

সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

 

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির: বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের কাজে ব্যবহৃত কীটনাশক বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারী ও দুইজন পুরুষ রয়েছেন। গ্রেপ্তার ব্যবসায়ীর নাম মো. সেলিম মিয়া (৫২)। শনিবার (৭ নভেম্বর) গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে নারীসহ দুই জেলেকে এবং পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কীটনাশক বিক্রেতা ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দাকোপ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

বনরক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযান

জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর খুলনার দাকোপ এলাকায় সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের সময় বনরক্ষীরা বাধা দেন। এ সময় বিষ প্রয়োগের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে এক নারীসহ দুই জেলে দেশীয় অস্ত্র দা নিয়ে বনরক্ষীদের ওপর হামলা করেন। এ ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে খুলনার দাকোপ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

বিষয়টি জানতে পেরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেন।

এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোংলার জয়মনি এলাকা থেকে জেলে সোহেল শেখ ও নারী জেলে লাইজু বেগমকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যে দোকান থেকে মাছ শিকারের কাজে ব্যবহৃত কীটনাশক কেনা হয়েছিল, সেই দোকানের মালিক ব্যবসায়ী সেলিম মিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

আসন্ন বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী

গ্রেপ্তার সেলিম মিয়া মোংলা পৌর শহরের শেখ আবদুল হাই সড়কে অবস্থিত সার ও কীটনাশক বিক্রির প্রতিষ্ঠান মেসার্স জনতা স্টোরের মালিক। তিনি আসন্ন মোংলা বন্দর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী। নির্বাচনে তাঁর প্রচার-প্রচারণাও ছিল চোখে পড়ার মতো।

সুন্দরবন ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত থাকবে, তারা যত ক্ষমতাশালীই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন থাকবে দস্যুমুক্ত। বনের মৎস্যসম্পদ, বন্যপ্রাণীসহ প্রাকৃতিক সম্পদ থাকবে দুর্বৃত্তমুক্ত—এটাই সরকারের লক্ষ্য। যারা সুন্দরবনের সম্পদের দিকে অসৎ নজর দেবে কিংবা বনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। এর সঙ্গে আরও যারা জড়িত রয়েছে, তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উদ্বেগ

সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার শুধু মৎস্যসম্পদের জন্যই নয়, পুরো বনাঞ্চলের জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী এবং খাদ্যশৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তাই সুন্দরবনের নদী-খাল ও জলজ সম্পদ রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো..