https://www.a1news24.com
২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:২৩

শ্রীপুরে অসহায় ও দরিদ্র মানুষ পেলো বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা

টি.আই সানি, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে মানবসেবার ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে মা-বাবার সেবা কেন্দ্রের উদ্যোগে দিনব্যাপী “চক্ষু ক্যাম্প” অনুষ্ঠিত হয়েছে। চক্ষু ক্যাম্পে ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের দুইজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চোখ ফুলে যাওয়া, লাল হওয়া, চুলকানি, চোখ বাঁকা, চোখ দিয়ে পানি পড়া, নেত্রনালী বন্ধ, গেøাকোমা, ঝাপসা দেখাসহ চোখের বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেন।

সোমবার (৫ জানুয়ারী) শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের নান্দিয়াসাঙ্গুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেড় হাজার অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয়। বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান ক্যাম্পে ময়মনসিংহের ভালুকা, গফরগাঁও, জেলার কাপাসিয়া ও শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গরীব দুঃস্থসহ সর্বস্তরের মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্রি চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ করেন।

পাশের কাপাসিয়া উপজেলার তরগাঁও ইউনিয়নের সরেষপুর গ্রামের মহেষ রবি দাস বলেন, আমাদের গ্রামে উন্নতমানের চক্ষু চিকিৎসা সেবা নেই। চিকিৎসার জন্য জেলা শহরে যেতে হয়। সেখানে ভোগান্তিও পোহাতে হয়। টাকা ছাড়া এখানে ভালো সেবা পেয়েছি। চাই এই উদ্যোগ সবসময় চলমান থাকুক, যাতে আমাদের মতো দরিদ্র রোগীরা উপকৃত হতে পারে।

চিকিৎসা নিতে আসা আমেনা বেগম (৪৫) বলেন, চোখে সমস্যা ছিল, কিন্তু টাকা না থাকায় চিকিৎসা করাতে পারিনি। আজ ফ্রি ক্যাম্পে এসে ডাক্তার দেখালাম, অপারেশনের সুযোগও পেলাম। আল্লাহ যেন তাদের ভালো রাখেন। এমন উদ্যোগ গরিবদের জন্য আশীর্বাদ। তারা চান ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম চলমান থাকুক এ প্রত্যাশা তার।

নান্দীয়াসাঙ্গুন গ্রামের রাশিদা বেগম (৬০) বলেন, চোখের ছানির সমস্যা ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামী চক্ষু হাসপাতালে যাওয়ার জন্য। সেখানে গেলে তারা বিনামূল্যে সানির অপারেশন এবং থাকা, খাওয়া-দাওয়াসহ সকল চিকিৎসা দেওয়া হবে।

চক্ষু ক্যাম্পের কার্যক্রম দেখতে আসা সুজলা রানী বলেন, আমার স্বামী দিলীপ চন্দ্র বর্মনের চোখে ছানি পড়ে নার্ভ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে সম্পূর্ণ ফ্রি’তে ইসলামী হাসপাতালে নিউরো সার্জনের চিকিৎসায় এখন সুস্থ আছেন।

নান্দীয়াসাঙ্গুন গ্রামের অশীতিপর বৃদ্ধ নূর মোহাম্মদ বলেন, চোখ দিয়ে পানি পড়তো। পমাস খানেক আগে এখান থেকে ফ্রি চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়েছেন। পাশের ঢালিবাড়ি মসজিদের ইমাম আতাউর রহমান ( ৪২) চোখে কম দেখতেন। তিনিও এখান থেকে ফ্রি চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন।

ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক নজরুল ইসলাম ও শুক্লা সাহা বলেন, ছানিজনিত কারণে যে সকল রোগী দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, তাদের চোখের ছানি অপারেশন এবং (আইএলও) লেন্স স্থাপনের লক্ষ্যে ছানি রোগী শনাক্তকরণ করা হয়। রোগী শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে বিনামূল্যে রোগীর চোখের প্রেসার, শরীরের রক্ত চাপ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দুই’শ রোগীকে ছানি অপারেশনের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়।

মা-বাবার সেবা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সুফী মো: নজরুল ইসলাম খসরু ভূঁইয়া জানান, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই তাঁর এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। বহু মানুষ চোখের নানা ধরনের দৃষ্টি সমস্যায় ভুগছেন। অনেকেই অর্থাভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। নিয়মিত চক্ষু সেবা প্রদানের মাধ্যমে এলাকার দরিদ্র, বৃদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে। দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের জন্য বিনামূল্যে থাকা, খাওয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ছানি অপারেশনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সব শ্রেণির মানুষের এ আয়োজনে স্বতঃষ্ফুর্ত অংশগ্রহণ আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আগামীতে এ ধরনের কার্যক্রম আরো বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরো জানান, ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের দুইজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের সমন্বয়ে ৮ জনের মেডিকেল টিম চক্ষু রোগীদের চিকিৎসা প্রদান ও ছানি রোগীদের বাছাই করেন। বাছাই করা রোগীদের পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন করা হবে।

আরো..