সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: ঢাকা, ১২ অক্টোবর: মানসিক স্বাস্থ্য কোনো অপরাধ বা ইচ্ছাশক্তির অভাব নয়; এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য ও নিরাময়যোগ্য বিষয়। মানুষের চিন্তাভাবনা, আবেগ ও আচরণের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘মেন্টাল ওয়েলবিয়িং’ নামে পরিচিত। মানুষের মানসিক সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনে পরিবারের সচেতনতা, মানসিক সমর্থন এবং সহায়ক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ৪টায় রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন এর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টর এর আওতাধধীন আহ্ছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের পক্ষ থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফ্যামিলি এডুকেশন মিটিং আয়োজিত।
“আ কমপ্রিহেনসিভ গাইড টু মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িং অন দ্য রোল অব ফ্যামিলি অ্যাওয়ারনেস” শীর্ষক সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রফেসর ডা: এম, এ. মোহিত কামাল।
তিনি বলেন, তীব্র মানসিক কষ্ট, অতিরিক্ত কাজের চাপ বা বিষণ্নতা থেকে মুক্তি পেতে কেউ কেউ ভুল জীবনযাত্রার আশ্রয় নিতে পারেন। আবার দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকার কারণে মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটে গুরুতর মানসিক সমস্যা, এমনকি সাইকোসিসও দেখা দিতে পারে।
তিনি বলেন, মানসিক রোগ তীব্র হলে রোগীর আচরণে হঠাৎ তীব্র পরিবর্তন, মারমুখী আচরণ কিংবা নিজেকে শেষ করে দেওয়ার মতো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের উত্তেজিত না হয়ে শান্ত থাকতে হবে। রোগীকে মারধর বা অবহেলা করে দূরে সরিয়ে রাখা যাবে না; প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের সহায়তা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল বিহ্যাব সেন্টার থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার পর রোগীর সুস্থতা ধরে রাখতে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার প্রয়োজনীয় মানসিক সমর্থন ও সহায়ক পরিবেশ দিতে না পারলে রোগীর পুনরায় মানসিক সমস্যা বৃদ্ধি পাওয়া বা ‘রিল্যাপস’-এর ঝুঁকি বাড়তে পারে।
রোগীকে অতীতের ভুল নিয়ে বারবার দোষারোপ বা অতিরিক্ত সন্দেহ না করে চাপমুক্ত, নিরাপদ ও ইতিবাচক পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
সভায় চিকিৎসাধীন ক্লায়েন্টদের অভিভাবক এবং সচেতন নাগরিকেরা অংশ নেন। তারা চিকিৎসা, পুনর্বাসন, মানসিক স্বাস্থ্য এবং রোগীর সুস্থতায় পরিবারের ভূমিকা নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।
সভায় স্বাস্থ্য সেক্টরের সিনিয়র সাইকোলজিস্ট, কেন্দ্র ব্যবস্থাপক, কেস ম্যানেজার ও কেন্দ্রের কাউন্সেলররা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসা শুধু ওষুধ খাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পূর্ণাঙ্গ সুস্থতার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক পরিবেশ ও পুনর্বাসনকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সচেতন ও সহায়ক পরিবার রোগীর সুস্থতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।