https://www.a1news24.com
১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:১৭

ভারত সিরিজ আয়োজন নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুয়ারে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

স্পোর্টস ডেস্ক: গত বছর আগস্টে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা থাকলেও পরে দুই বোর্ডের সমঝোতায় সিরিজটি স্থগিত করা হয়। নতুন সূচি অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে সীমিত ওভারের সিরিজ খেলতে আসার কথা ভারতের।

ভারতের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুতই এই সংকট দূর হবে বলে আশা করছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আমিনুলের আশা, সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে ভারতের নির্ধারিত সিরিজও সময়মতো মাঠে গড়াবে।বাংলাদেশ-ভারতের সিরিজটি সামনে রেখে কূটনৈতিক তৎপরতাও শুরু হয়েছে।

ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সাক্ষাৎ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে দুই দেশের যোগাযোগকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল।

বাংলাদেশের সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব যেন দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেটে না পড়ে, সেটিই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন আমিনুল।সোমবার (১০ আগস্ট) কর্পোরেট ফুটবল টুর্নামেন্ট প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমিনুল হক। সেখানে আমিনুল হক বলেন, প্রথমত হচ্ছে যে গত বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে আমাদের বিগত সরকার যে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, হঠাৎ করেই বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়া, এটি আসলে আমি ব্যক্তিগতভাবে স্পোর্টসম্যান হিসেবে এক্সেপ্টেবল মনে করি না। এটা আসলে সঠিক হয়নি। তারপর ওটাকে কেন্দ্র করে ভারতের সাথে পার্শ্ববর্তী দেশ যে একটি দোটানা তৈরি হয়েছে, আমি ইতোমধ্যে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। তারাও আমাদের ইন্ডিয়ান হাইকমিশন থেকে শুরু করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলেছে। সো এই বিষয়টিকে আমরা দ্রুতই সমাধান করতে চাই।

ভারত সিরিজ নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো বাধা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আরও আশা প্রকাশ করে আমিনুল বলেন, আমাদের জায়গা থেকে এবং আমি আশা করি আজকে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে যে কথা বললাম, তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি ইতোমধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন এবং তিনি খুব পজিটিভলি বলেছেন যে আমরা ইনশাল্লাহ দ্রুতই আমাদের যে বাংলাদেশ এবং ভারতের যে সিরিজটা রয়েছে সেটাকে কীভাবে আমরা খুব দ্রুত যাতে খেলার মাধ্যমে যাতে আমরা একটি স্মুথ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে যাতে আমরা রান করতে পারি।

ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাবেক এই ফুটবলার। তার মতে, দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। সেখান থেকে ভালো সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। আজকে ভারতীয় হাইকমিশনার আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আমি আজকে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও খুব আশাবাদী। ভারতের সঙ্গে গত বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যে দোটানা তৈরি হয়েছিল, সেটা খুব দ্রুতই আমরা সমাধান করতে পারব।

সেপ্টেম্বরে ভারতকে আতিথ্য দেওয়ার বিষয়ে আশাবাদী ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা আশাবাদী এখন পর্যন্ত যে ইনশাল্লাহ, ভারত-বাংলাদেশের যে সিরিজটি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আমাদের ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের যে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে সেটির মাধ্যমে আমরা ইনশাল্লাহ এই সমাধানটুকু করে ফেলতে পারব। আশাবাদী আমি ইনশাল্লাহ।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর মতে, দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ক্রিকেটের মাধ্যমে প্রতিবেশী দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপরও গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আমি আশা করি স্পোর্টসের মাধ্যমে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের সাথে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে আমরা আমাদের এই সম্পর্কটাকে অটুট রাখতে চাই এবং যে দোটানা তৈরি হয়েছে সেই দোটানাটাকে আমরা স্মুথলি রান করতে চাই।

আরো..