https://www.a1news24.com
১৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৪:৪৫

বিশ্বকাপের ফাইনালে ফেভারিট স্পেন, আর্জেন্টিনার শেষ ভরসা মেসি

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। নিউইয়র্ক-নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মহারণের আগে ফুটবল বিশ্লেষক, পরিসংখ্যানবিদ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বড় একটি অংশ স্পেনকেই এগিয়ে রাখছে। তবে লিওনেল মেসির উপস্থিতিই আর্জেন্টিনাকে এখনো শিরোপার অন্যতম দাবিদার করে রেখেছে।

চার বছর আগে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। এবার টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিততে পারলে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে সেই কীর্তি গড়বে আলবিসেলেস্তেরা। কিন্তু এবার তাদের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা দুর্দান্ত ছন্দে থাকা স্পেন।

পুরো টুর্নামেন্টে ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল, শক্তিশালী মাঝমাঠ এবং আক্রমণভাগের ধারালো পারফরম্যান্সে নজর কেড়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। সেমিফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসেদের নিয়ে গড়া ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে স্পেন।

স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দলগত সমন্বয়। রদ্রি, ফ্যাবিয়ান রুইজ, দানি ওলমো, লামিন ইয়ামাল, অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওয়ারজাবালদের সমন্বয়ে গড়া এই দল বল দখল ও আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে সক্ষম হয়েছে পুরো আসরজুড়েই।

ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণেও মাঝমাঠের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। রদ্রি ও ফ্যাবিয়ান রুইজের নিয়ন্ত্রণ, ওলমোর সৃজনশীলতা এবং ইয়ামালের গতিময়তা স্পেনকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি দলের প্রধান আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। টুর্নামেন্টে ইতোমধ্যে আট গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন এই তারকা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে শেষ মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মেসি। এনজো ফার্নান্দেজের সমতার গোলে অবদান রাখার পাশাপাশি লাউতারো মার্টিনেজের জয়সূচক গোলেও ছিল তার নিখুঁত অ্যাসিস্ট। বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার সামর্থ্যই তাকে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অস্ত্রে পরিণত করেছে।

রক্ষণভাগেও বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে আর্জেন্টিনার জন্য। লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরোকে থামাতে হবে স্পেনের গতিময় আক্রমণ, বিশেষ করে লামিন ইয়ামাল ও ওয়ারজাবালকে।

এই ফাইনালকে দুই প্রজন্মের লড়াইও বলা হচ্ছে। একদিকে বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, অন্যদিকে ভবিষ্যতের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে বিবেচিত লামিন ইয়ামাল। ফলে বিশ্বকাপের শিরোপার পাশাপাশি ফুটবল বিশ্বের নতুন এক অধ্যায়েরও সাক্ষী হতে যাচ্ছে এই ম্যাচ।

আরো..