https://www.a1news24.com
,

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মৃত্যু: বারে তরুণীকে ঘিরে রহস্য

বিমান বাহিনীর বরখাস্ত হওয়া ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলার তদন্তে নেমে নানামুখী তথ্য পাচ্ছে পুলিশ। বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর একের পর এক নতুন তথ্য। বন্ধু দীপের দেওয়া তথ্যে একাধিক অসংগতির মধ্যেই সামনে এসেছে ওই রাতে তরুণীসহ বারে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ। যেখানে সঙ্গে ছিলেন দীপও।

তদন্তে দেখা যায়, টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে যাওয়ার আগে উত্তরার সোনারগাঁও জনপথ রোডের ‘নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’-এ এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় অবস্থান করেন তাহসিফ ও তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার জামান দীপ। ওই সময় তাদের সঙ্গে ২৪-২৫ বছর বয়সি এক তরুণীও ছিলেন।

সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে পৌঁছান তাহসিফ, দীপ ও একজন তরুণী। তারা একটি মোটরসাইকেলে সেখানে যান।কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে করে পৌঁছান দীপ। পরে তিনজনকে একসঙ্গে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতে দেখা যায় ক্যামেরায়।

রেস্টুরেন্টের আরেকটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও ওই তরুণী লিফটের সামনে অপেক্ষা করছেন। কিছুক্ষণ পর হেলমেট পরা অবস্থায় সেখানে পৌঁছান দীপ।এরপর তিনজন একসঙ্গে লিফটে ওঠেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হতে দেখা যায়। পরে মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যান তারা।

রেস্টুরেন্ট থেকে তারা তিনজন কোথায় গেলেন সেই তথ্য খুঁজছে তদন্তকারী দলসহ পুলিশের একাধিক ইউনিট।তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফ ওই নারীকে কোথায় নামিয়ে দেন সেটি এখনও জানা যায়নি। এরপর তাহসিফ ও দীপ যান টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায়। এর মধ্যে ওই তরুণী কোন পর্যন্ত ছিলেন তাদের সঙ্গে, কোথায় নেমে গেলেন এবং ওই এলাকায় তাদের অবস্থান ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের সূত্র খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

এ বিষয়ে নৌ-পুলিশ ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘রেস্টুরেন্টে নারীসহ প্রবেশের ভিডিও দেখেছি। তবে ওই নারীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তার পরিচয় মিললে অনেক রহস্য উন্মোচন হতে পারে।তিনি বলেন, ‘মামলাটি আমরা তদন্ত করছি। দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। রিমান্ডে এনে তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে’

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এক কর্মকর্তা বলেন, গত সোমবার রাতে টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় টহল পুলিশের একটি দলের সঙ্গে দীপের দেখা হয়। তার গায়ে নোংরা আবর্জনা লেগেছিল। টহল পুলিশের একজন সদস্য জানিয়েছে, দীপের গায়ে আবর্জনা লেগে থাকার বিষয়ে জানতে চায়। ওই সময় সে নিজেকে সেনাবাহিনীর ‘ক্যাপ্টেন’ পরিচয় দিয়েছিল। এরপর পুলিশ তাকে জেরা না করে সেই এলাকা থেকে চলে যেতে বলে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, তারা কয়েকটি স্থানের অনেক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। তাহসিফ ও দীপের কললিস্ট, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন অ্যাপে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ হতো সেসব তথ্য নেওয়া হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এসব থেকে তারা মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে না।

আরো..