জৈন্তাপুরে ৪৩ শিক্ষার্থীর বৃত্তি অর্জন, সবার ওপরে চিকনাগুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
প্রাথমিক বৃত্তিতে জৈন্তাপুরের গৌরব, সর্বোচ্চ সাফল্য চিকনাগুল সরকারি বিদ্যালয়ের
জৈন্তাপুর( সিলেট) প্রতিনিধি: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষায় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় এবার সরকারি ৭২টি ও বেসরকারি ১২টিসহ মোট ৮৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। পরীক্ষায় নিবন্ধিত ছিল ৬৩১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে অংশগ্রহণ করে ৩৬৭ জন এবং অনুপস্থিত ছিল ২৬৪ জন।
প্রকাশিত ফলাফলে জৈন্তাপুর উপজেলায় মোট ৪৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ২৭ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে ৪ জন। এছাড়া সরকারি বিদ্যালয় থেকে সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৬ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে সাধারণ বৃত্তি অর্জন করেছে আরও ৬ জন শিক্ষার্থী।
ফলাফল অনুযায়ী, চিকনাগুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ট্যালেন্টপুলে ৯ জন এবং সাধারণ ক্যাটাগরিতে ১ জনসহ মোট ১০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে।
এছাড়া শাহজালাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সাধারণ ক্যাটাগরিতে ১ জন, হেমু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে ৩ জন, কাপনারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে ১ জন, চাক্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে ২ জন, মানিকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে ২ জন, খরিলহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে ১ জন, নয়াখেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে ১ জন ও সাধারণ ক্যাটাগরিতে ১ জন, পশ্চিম সুরুখেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে ১ জন, লামনীগ্রাম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে ৬ জন ও সাধারণ ক্যাটাগরিতে ১ জন, দিগারাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সাধারণ ক্যাটাগরিতে ১ জন এবং আসামপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে ১ জন বৃত্তি অর্জন করেছে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মর্নিং বার্ডস কিন্ডারগার্টেন স্কুল থেকে ট্যালেন্টপুলে ৪ জন ও সাধারণ ক্যাটাগরিতে ১ জন, ফ্রেন্ডশীপ পাবলিক স্কুল থেকে সাধারণ ক্যাটাগরিতে ৩ জন এবং বিয়াম ডা. কুদরত উল্লাহ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে সাধারণ ক্যাটাগরিতে ১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে।
সব মিলিয়ে ফলাফলের শীর্ষে রয়েছে চিকনাগুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি ২০১৩ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে সরকারি ও বেসরকারি বৃত্তি পরীক্ষায় উপজেলায় সর্বোচ্চ সংখ্যক বৃত্তি অর্জনের কৃতিত্ব ধরে রেখেছে। এর আগে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. মঞ্জুর আহমেদ টানা তিনবার উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হন এবং বিদ্যালয়টি চারবার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি লাভ করে।
এ বিষয়ে চিকনাগুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, “এই সাফল্য আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পরিচর্যা, মানসম্মত পাঠদান এবং অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতার কারণে এমন অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও আরও ভালো ফলাফল অর্জনে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাব।”
জৈন্তাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুলহাস বলেন, “ফলাফল আরও ভালো হতে পারত। বিশেষ করে পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। আগামীতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত এবং আরও উন্নত ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যে আমরা শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বয়ে কাজ করে যাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, এ বছর সারাদেশে দুই ক্যাটাগরিতে মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ ক্যাটাগরিতে ৪৬ হাজার ২৮১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। গত রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।