https://www.a1news24.com
৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:২৯

প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও নির্ভয়ে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশ ও জনগণের কল্যাণে নির্ভয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার রাতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মিলনে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।তিনি বলেন, “দেশ এবং জনগণের কল্যাণে আপনারা (জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় প্রশাসকগণ) নির্ভয় নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন।“সরকার আপনাদের যেকোনো আইনগত এবং মানবিক উদ্যোগে সক্রিয় সহায়তা দেবে ইনশাআল্লাহ।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হল জনগণের বিশ্বাস। সরকার এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনমনে এই বিশ্বাস কিন্তু ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। এই ব্যাপারেও আপনারা যত্নবান থাকবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। “

তিনি বলেন, “প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়। এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্যম। আমি একটি বিষয় গভীরভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের সমস্যা অসংখ্য, তবে সম্ভাবনাও কিন্তু কম নয়।

“আমাদের দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ যেটি আছে, এর সুযোগ নিয়ে আমরা যদি তরুণ এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি তাহলে এই জনসংখ্যাই কিন্তু হবে আমাদের জনসম্পদ এবং বিশ্বাস রাখুন, এরাই কিন্তু বদলে দিতে পারবে আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশকে।”

মানুষের উপকার করার মানসিকতা নিয়ে সামনে এগোনোর আহ্বান রেখে জনপ্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের প্রশাসকদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, “রাষ্ট্র এবং সমাজের ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে জাগিয়ে রাখতে আমাদেরকে সম্ভাব্য সকল উপায় বের করা প্রয়োজন। আমাদেরকে পারিবারিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হতে হবে।’’

“আমরা যদি সবাই একটা ছোট্ট বিষয় মনে রাখি, একটি ছোট্ট কথা মনে রাখি, সেটি হল একটি রাষ্ট্রের খুবই ক্ষুদ্র ইউনিট একটি পরিবার। একইভাবে অনেকগুলো, লক্ষ কোটি পরিবারের সম্মেলনই হল আমাদের এই রাষ্ট্র। সুতরাং পরিবারগুলো ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত থাকলে রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধ সুসংহত হয়।”

ডিসি সম্মেলন উপলক্ষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনে কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের এই বার্ষিক সম্মিলন হয়। বার্ষিক এই সম্মিলনে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা সপরিবারে অংশ নেন।গেল রোববার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আলাদা আলাদা সভায় জেলা প্রশাসকদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা দিক নির্দেশনা দেন।

এছাড়া ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করেন।জেলা প্রশাসক সম্মেলনের শেষ দিনে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠান হল।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য ও তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট উপহার দেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।বক্তব্যের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থাকেন প্রধানমন্ত্রী এবং নৈশ ভোজেও অংশ নেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের চার দিনের সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে আপনারা প্রায় প্রত্যেকেই আগামীকাল যার যার কর্মস্থলে ফিরে যাবেন এবং যথারীতি কাজ শুরু করবেন আপনারা।

“এই চার দিনের সম্মেলনে আপনারা এক দিকে প্রশাসনিক বিষয়গুলো সম্পর্কে হাল নাগাদ তথ্য পেয়েছেন। অপরদিকে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং কর্মসূচিগুলো সম্পর্কে হাতে কলমে অবগত হয়েছেন।”

তিনি বলেন, “আমি কথাটি আগেও বলেছিলাম। সেদিনকার অনুষ্ঠানে (উদ্বোধন অনুষ্ঠানে) কমবেশি বলেছিলাম…দেশ এবং জনগণের কল্যাণে আমরা দলীয়ভাবে যে সকল ইশতেহার প্রণয়ন করেছিলাম সেই ইশতেহারের পক্ষে দেশের জনগণ সমর্থন জানিয়েছেন। সুতরাং এটি এখন আর বিএনপির দলীয় ইশতেহার নয় বরং এটি এখন দেশের জনগণের ইশতেহার।”

এখন ইশতেহার বাস্তবায়নের পালা, এ কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “জনগণের কাছে দেওয়া আমাদের অঙ্গীকারগুলো এই মুহূর্তে আপনাদের সামনে আমি পুনরায় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে চাই না। তবে শুধু এতটুকু বলব, জনস্বার্থে নেওয়া সরকারের কাজগুলো বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব জনপ্রশাসনের ওপর বর্তায় এবং তাই সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনের সাফল্য শেষ পর্যন্ত সরকারের সাফল্য হয়ে দাঁড়ায়।

“এ জন্য আমি বলি, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাগণ বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকগণ হচ্ছেন মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক ‘অ্যাম্বাসেডর’। ”

বর্তমান সরকারের কাছে জনগণের ‘প্রত্যাশা অনেক’, এ কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের সকল যৌক্তিক প্রত্যাশা সাধ্যমতন পূরণ করতে বদ্ধ পরিকর। এটি জনগণের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার।

আমরা কথায় কথায় বলি, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। জনগণ যদি সত্যিই রাষ্ট্রের মালিক হয়, তাহলে এই মালিক, তারা যখন অফিস আদালতে তাদের সমস্যা নিয়ে যান, তারা যেন আপনাদের সেবায় কিছুটা হলেও রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন। সেটি নিশ্চিত করা কিন্তু আপনাদের দায়িত্বের অংশ বলে আমি মনে করি।”

তিনি বলেন, সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে জনগণ যদি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিক ব্যবহার পার তাহলে এটি রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাসকে বৃদ্ধি করে। আর যদি হয়রানির শিকার হন তাহলে তিনি শুধু একটি সেবা থেকেই বঞ্চিত হন না। বরং একই সাথে রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রতি তার শ্রদ্ধা এবং বিশ্বাস নষ্ট হয়।

রাষ্ট্র এবং সরকারের ওপর জনগণের আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কার্যক্রম ভূমিকা পালন করে তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, “তাৎক্ষণিকভাবে হয়ত সবকিছুর সমাধান করে দেওয়া সম্ভব নয়, এটি আমরা বুঝি। কিন্তু ভুক্তভোগীর মনে অন্তত এই ধারণা জন্ম নেবে বা জন্ম নেওয়া জরুরি যে আপনি কিংবা আপনার অফিস তার সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আন্তরিক।”

জনপ্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতেই হবে আমাদের। সেই কাজটি আপনাদের ভূমিকার ওপরে বলা যায় প্রায় পুরোপুরি নির্ভর করে। আমাদের সরকার এমন একটি জনমুখী সরকার প্রশাসন চায় যেখানে সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষের মানুষ সম্মানের সাথে দ্রুত স্বচ্ছ এবং হয়রানি মুক্তভাবে সেবা পাবে। এ বিষয়টি আপনারা নিশ্চিত করতে সক্ষম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আইন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু মানবিকতাও আরো বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।’’

“একজন বৃদ্ধ কিংবা অসুস্থ মানুষ আপনাদের অফিসের সামনে কিংবা সেবার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন তখন তাদের বিষয়গুলো আইনগত উপায়ে সমাধানের পাশাপাশি তাদের প্রতি মানবিক আচরণও খুবই জরুরি। সেবাগ্রহীতার প্রতি আপনাদের আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা, তাদের প্রতি রাষ্ট্র এবং সরকারের ব্যবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা জন্ম দেয়।

“হয়ত এই বিষয়গুলো অনেকের কাছে ছোট মনে হতে পারে। কিন্তু জনমনের প্রভাব কিন্তু অনেক বেশি। ভবিষ্যতে এসব বিষয়গুলোর প্রতি আরো মনোযোগী এবং যত্নবান থাকার জন্য আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রি পরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার।

আরো..