শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে শিথিলতা তৈরি হয়েছিল, তা স্বাভাবিক করতে আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের শুরুতেই নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে আলোচনা আবারও শুরু হয়েছে। তবে সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
আনন্দবাজার আরও জানিয়েছে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়া। সফর হলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে। সেখানে সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অভিবাসন, বাণিজ্য এবং গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। ফলে চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কূটনৈতিক পর্যায়ের এই যোগাযোগকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে ভারত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুটি পৃথক আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। একটি ছিল দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য এবং অন্যটি বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য।
তবে শেষ পর্যন্ত তারেক রহমান নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেননি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, উপযুক্ত সময় ও পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক সফরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমান ভারত সফরে আগ্রহী হলেও সফরের আগে আলোচ্যসূচি ও সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে স্পষ্টতা চাওয়া হচ্ছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। অক্টোবরেও তার একাধিক আন্তর্জাতিক কর্মসূচি রয়েছে। ফলে নভেম্বর বা ডিসেম্বরের শুরুটিকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে ঢাকার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সম্ভাব্য সফরের বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ পাওয়া যায়নি। এরআগে গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিন-তারিখ এখনো চূড়ান্ত না হলেও এ বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক কথাবার্তা চলছে। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই।’
সূত্র: আনন্দবাজার