যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়ার চার মাস পর শুরু হচ্ছে তার রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন কার্যক্রম। প্রয়াত এ নেতার স্মরণে ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও জানাজার আয়োজন করেছে ইরান। এ উপলক্ষে রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষের সমাগম ঘটতে শুরু করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ বহনকারী কফিনটি মধ্য তেহরানের সেই স্থানে নেওয়া হয়, যেখানে তিনি হামলায় নিহত হয়েছিলেন। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) জানিয়েছে, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কফিনটি সেখানে নেওয়া হয় এবং এটি ছিল রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা।
শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি ও নতুন হামলার আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।
তেহরানের বিভিন্ন সড়কে কালো পোশাক পরিহিত হাজারো মানুষকে ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে শোক প্রকাশ করতে দেখা গেছে। অনেকের হাতে ছিল আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতিকৃতি। শোকাহত মানুষের কান্না ও স্লোগানে ভারী হয়ে ওঠে রাজধানীর পরিবেশ।
ইরানি কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শনিবার থেকে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফন ও শোকানুষ্ঠান। এই সময়ে দেশের বিভিন্ন শহরেও স্মরণসভা, দোয়া মাহফিল এবং রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।
খামেনির অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, তার কফিনটি একটি ছোট কক্ষে রাখা হয়েছে, যার দেয়াল ইরানের জাতীয় পতাকায় সজ্জিত। কফিনের ওপর বিছিয়ে রাখা হয়েছে সাদা আরবি হরফসংবলিত লাল রঙের একটি পতাকা, যা ইমাম হোসেন (আ.)-এর মাজারের পবিত্র পতাকা হিসেবে পরিচিত।
শিয়া মুসলিমদের কাছে এই পতাকাটি প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ এবং সত্যের পক্ষে অবিচল থাকার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। ইরানি সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ‘প্রতিরোধ, ত্যাগ ও সত্যের প্রতি অটল নিষ্ঠার’ প্রতীক বহন করে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খামেনির মরদেহ বহনকারী কফিন তেহরানের একটি মসজিদে পৌঁছালে দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় নেতারা সেখানে উপস্থিত হয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এরপর ধাপে ধাপে রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।