শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা, ভিএআরে একের পর এক গোল বাতিল এবং গনসালো রামোসের যোগ করা সময়ের জয়সূচক হেড—সব মিলিয়ে রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল।
শুক্রবার (৩ জুলাই) কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে রবার্তো মার্তিনেজের দল। প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও দোমিনিক লিভাকোভিচের দুর্দান্ত গোলরক্ষণের কারণে গোলের দেখা পায়নি পর্তুগাল। রাফায়েল লেয়াও, ব্রুনো ফার্নান্দেস, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও রেনাতো ভেইগার প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয় ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষকের দৃঢ়তায়।
বিরতির পর ম্যাচে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ৫৩তম মিনিটে যোসিপ স্তানিশিচের শট ইভান পেরিসিচ স্পর্শ করে জালে পাঠালে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দলটি। তিন মিনিট পর আবারও বল জালে জড়ায় ক্রোয়েশিয়া, তবে ভিএআরে নিকোলা ভ্লাসিচ অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল হয়।
এরপর ম্যাচে ফেরার জন্য একযোগে চারটি পরিবর্তন আনেন পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। সেই সিদ্ধান্তের ফল আসে দ্রুতই। ৬৪তম মিনিটে কর্নারের সময় রেনাতো ভেইগাকে ফাউলের ঘটনায় ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। ৬৮তম মিনিটে স্পটকিক থেকে নির্ভুল শটে সমতা ফেরান ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার প্রথম গোল এবং বিশ্বকাপে মোট ১১তম গোল।
ম্যাচের বাকি সময়ে একাধিক নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে নায়ক হয়ে ওঠেন পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। মাতেও কোভাচিচ ও ইগর মাতানোভিচের দারুণ দুটি সুযোগ অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন তিনি। ৮০তম মিনিটে পেতার সুচিচের গোলও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
নাটকীয় সমাপ্তি আসে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে। রাফায়েল লেয়াওয়ের নিখুঁত ক্রস থেকে গনসালো রামোস দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠিয়ে পর্তুগালকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়া আরও একবার বল জালে পাঠালেও দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর সেটিও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। পুরো ম্যাচে অফসাইডের কারণে চারটি গোল বাতিল হয়, যার মধ্যে তিনটিই ছিল ক্রোয়েশিয়ার।
শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করে পর্তুগাল। রোনালদোর সমতাসূচক গোল, দিয়োগো কস্তার অসাধারণ গোলরক্ষণ এবং বদলি নেমে গনসালো রামোসের জয়সূচক হেডে জয় পায় পর্তুগিজরা।
শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন। অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে স্পেনও পরের রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত করেছে। আগামী ৬ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আইবেরিয়ান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী।