সংবাদ বিজ্ঞপ্তি-কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আমাদের শেখা, কাজ করা এবং চিন্তা করার ধরন দ্রুত বদলে দিচ্ছে। শুধুমাত্র তথ্য জানা আছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে আমরা কতটা ভালো প্রশ্ন করতে পারি, কোনো সমস্যাকে কতটা গভীরভাবে বুঝতে পারি এবং নতুনভাবে সমাধান খুঁজে বের করতে পারি। এই বিষয়গুলোকে সামনে রেখে “টেন এক্স মাইন্ড ইন দ্যা এজ অফ এআই: আর ইউ রেডি? ” শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট, সোমবার বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি)-তে মিলিয়নএক্স বাংলাদেশ এবং আইআইটি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার্স’ কমিউনিটি (আইআইটিএসইসি) -এর যৌথ উদ্যোগে সেমিনারটি আয়োজন করা হয়। সেমিনারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে আমাদের শেখার পদ্ধতি, কর্মক্ষেত্র এবং চিন্তার ধরন পরিবর্তন করছে এবং এই পরিবর্তনের জন্য তরুণ প্রজন্ম ও দেশের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিলিয়নএক্স বাংলাদেশ এর প্রতিষ্টাতা সদস্য ও ডেটাসফট লিমিটেড-এর প্রেসিডেন্ট এম. মঞ্জুর মাহমুদ এবং মিলিয়নএক্স বাংলাদেশ এর প্রতিষ্টাতা সদস্য ও ইভিআরকুল Inc. -এর প্রতিষ্ঠাতা আনিস রহমান। এছাড়াও, উপস্থিত ছিলেন স্টুডেন্ট অ্যাডভাইজার প্রফেসর ড. জেরিনা বেগম এবং অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. মো. নুরুল আহাদ তাওহিদ।
সেশনে এম. মঞ্জুর মাহমুদ বর্তমান শিল্প ও কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি তুলে ধরেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-এর কারণে কর্মক্ষেত্র কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, ভবিষ্যতে কোন ধরনের দক্ষতার গুরুত্ব বাড়বে এবং কোন ধরনের কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-এর প্রভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। তরুণদের শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার শেখার পাশাপাশি পরিবর্তনশীল কর্মপরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো দক্ষতা গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
আনিস রহমান “টেন এক্স মাইন্ড”-এর ধারণা, এর ভিত্তি এবং চারটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি তুলে ধরেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রচলিত চিন্তার বাইরে গিয়ে সমস্যা চিহ্নিত করা, সৃজনশীলভাবে চিন্তা করা, নতুন সমাধান তৈরি করা এবং সঠিক প্রশ্ন করতে পারা কেন গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, একটি ১০ গুণ অর্থনীতি গড়ে তুলতে মানবসম্পদ উন্নয়ন, উদ্ভাবন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং চিন্তার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাও তিনি তুলে ধরেন।
আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক প্রশ্নের উত্তর খোজা সহজ করে দিচ্ছে, তাই ভবিষ্যতে মানুষের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে সঠিক প্রশ্ন করতে পারার ক্ষমতা। শুধু তথ্য জানা নয়, সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে নতুন ধারণা তৈরি করা এবং জটিল সমস্যার সমাধান করার সক্ষমতাই ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় বড় পার্থক্য তৈরি করবে।
সেমিনারের শেষপর্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, ১০ গুণ মেধা এবং ১০ গুণ অর্থনীতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। বক্তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়ে সরাসরি মতবিনিময় করেন।
সেশনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়াতেও উঠে আসে এর ইতিবাচক প্রভাব। আইআইটিসেক-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মৃন্ময় পৈত বলেন, “সেশনটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত, উপভোগ্য এবং চিন্তাশীল ছিল। আমাদের অতিথিরা তাঁদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত মূল্যবান দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তব অভিজ্ঞতা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন। তাঁদের বলা গল্প ও অভিজ্ঞতাগুলো সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের কীভাবে প্রস্তুত করা উচিত, তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত পরিবর্তনশীল সময়ে আমাদের কী ধরনের দক্ষতা ও মানসিকতা গড়ে তোলা প্রয়োজন, সে বিষয়ে সেশনটি আমাদের জন্য অনেক কিছু শেখার সুযোগ তৈরি করেছে। নিঃসন্দেহে এটি ছিল একটি অত্যন্ত মূল্যবান ও অর্থবহ অভিজ্ঞতা।”
সব মিলিয়ে, “টেন এক্স মাইন্ড ইন দ্যা এজ অফ এআই: আর ইউ রেডি?” শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে একটি আলোচনা ছিল না, বরং এটি ছিল ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের চিন্তাধারা ও দক্ষতাকে কীভাবে প্রস্তুত করা যায়, তা নিয়ে ভাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সেমিনারের মাধ্যমে মিলিয়নএক্স বাংলাদেশ এবং আইআইটি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার্স’ কমিউনিটি (আইআইটিসেক) তরুণদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, উদ্ভাবন এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
সেমিনারের মূল বার্তাটি ছিল সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-এর যুগে এগিয়ে থাকার জন্য শুধু বেশি তথ্য জানা যথেষ্ট নয়, বরং সঠিক সমস্যা চিহ্নিত করা, প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করা এবং এমন প্রশ্ন করতে শেখা জরুরি, যা নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি করে।