শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর অন্য সহযোগীদের বিচার তখন সামরিক আদালতে হয়েছে। সেখানে কিছু পর্যবেক্ষণ আছে। তিনি দীর্ঘদিন ভিন্ন পরিচয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে পলাতক ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সেনা আইনে বিচার করার জন্য তাঁকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছি। জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তাঁর বিচারটা নিশ্চিত করা হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় যাঁরা সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, একই রায়ে তাঁর বিষয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ থাকলে, সেটিও জেনারেল কোর্ট মার্শাল দেখবে।’
তাঁর বিরুদ্ধে সিভিল আইনে কোনো মামলা করা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সিভিল আইনে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করাটা কতটা আইনসম্মত হবে, পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেখা যাবে, এখন নয়। একই ব্যক্তিকে একই অপরাধে দুই ভিন্ন আইনে দুবার বিচার করা যায় না।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৫ বছর ধরে পলাতক মেজর (অব.) মোজাফফরকে (৭৭) ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় ডিবি। পরদিন তাঁকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে মিয়ানমার সীমান্ত এখন আমাদের (বাংলাদেশের) জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মিয়ানমার সীমান্তে সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়। এ ছাড়া আরএসও, আরসাসহ আরও কয়েকটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীও সক্রিয় রয়েছে। তাদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাব অনেক সময় বাংলাদেশের সীমান্তেও এসে পড়ে।’
এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে মাদক চোরাচালান বাড়ছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অনেক সময় সীমান্তের গোলাগুলিতে বাংলাদেশের নাগরিকেরা হতাহত হচ্ছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবে মিয়ানমার সীমান্তে ১০৯ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের একটি প্রস্তাব রয়েছে।
মিয়ানমার সীমান্তে ভূমিমাইন প্রতিরোধ নিয়ে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাইন শনাক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ইতিমধ্যে সংগ্রহ করে বিজিবিকে দেওয়া হয়েছে। বিজিবির সদস্যরা সেগুলো ব্যবহার করছেন, যাতে ল্যান্ডমাইন (ভূমিমাইন) বিস্ফোরণে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।
পুশ ইন
ভারত থেকে ‘পুশ ইন’ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সরকার একজনকেও অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ ইন হতে দেয়নি। বিজিবি ও সীমান্ত এলাকার জনগণের সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত তা সফলভাবে ঠেকাতে সক্ষম হয়েছি। কিছু কিছু অবৈধ প্রবেশ হয়েছিল, সেই সংখ্যা বেশি নয়। যাঁরা অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুশ ইন করতে দিইনি আমরা।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নতুন নির্বাচিত সরকার তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডার কারণে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছে। সে বিষয়ে বাংলাদেশের কোনো বক্তব্য নেই। এ বিষয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেই কথা বলা হবে। যদি কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে অবস্থান করে থাকেন, তার তালিকা বিধি অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাঁদের নাগরিকত্ব যাচাই করা হবে। যাচাইয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত প্রক্রিয়ায় তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এর বাইরে কাউকে গ্রহণ করা হবে না।
বিজিবির ডগ স্কোয়াডকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার সম্প্রতি যে আধুনিক ও শক্তিশালী মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন করেছে, সেখানে ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে। তবে নতুন করে প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড গড়ে তুলতে সময় লাগবে। তাই আপাতত বিজিবির বিদ্যমান ডগ স্কোয়াডের সহায়তা নেওয়া হবে।
বিজিবিকে আরও শক্তিশালী করতে জনবল বৃদ্ধি, যানবাহন, আধুনিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে ‘এইড টু সিভিল পাওয়ার’ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।