https://www.a1news24.com
১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:০১

আওয়ামী লীগের পক্ষে ভুয়া খবর ছড়ানোর নেটওয়ার্ক শনাক্ত, ২৯ অ্যাকাউন্ট বন্ধ

একজন মানুষ, ২৯টি অ্যাকাউন্ট আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এই সামান্য জনবলেই তৈরি হচ্ছিল দেড় হাজার ভুয়া খবরের শিরোনাম, দেড় হাজার ছবি তৈরির প্রম্পট ও তিনশ কাল্পনিক ঘটনার বর্ণনা।

সেখানেই শেষ নয়, স্বয়ংক্রিয় স্ক্রিপ্টে ভিডিও বানিয়ে মাসের পর মাস আগে থেকেই ইউটিউবে প্রকাশের সময় ঠিক করে রাখা হচ্ছিল, পাশাপাশি ফেইসবুক লাইভ ও টিকটক লাইভস্ট্রিমেও চলছিল একই প্রচারণা।এসব কনটেন্টের লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালানো এবং দলটির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করা।

বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বাংলা ভাষায় সাজানো ভুয়া খবর তৈরির একটি দীর্ঘস্থায়ী ও স্বয়ংক্রিয় প্রচারণা নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে বন্ধ করার কথা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানি অ্যানথ্রপিক।

সেপ্টেম্বরের `থ্রেট ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টে’ এআই কোম্পানিটি লিখেছে, এই কার্যক্রমে তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ক্লড ব্যবহার করে বাংলাদেশের ভুয়া বাংলা সংবাদ তৈরি করা হতো।

আওয়ামী লীগ ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ক্ষমতার বাইরে থাকায়, অ্যানথ্রপিকের তদন্তে এই কার্যক্রমকে সরকারি প্রচারণা নয়, বরং একটি বিরোধী দলের পক্ষে পরিচালিত কার্যক্রম হিসেবে দেখা হয়েছে। তবে, তদন্তে আওয়ামী লীগ নিজে এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা বা অর্থায়ন করেছে, এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি।

অ্যানথ্রপিক বলেছে, এই কার্যক্রম পরিচালনাকারীরা তাদের প্রতারণামূলক কৌশল সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন ছিলেন। অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে তারা এমনকি লিখেছিলেন, “কেউ জানে না খবরটি ভুয়া।”

তদন্তে দেখা গেছে, বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার এক ব্যক্তি এই পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। প্ল্যাটফর্মে সীমাবদ্ধতা ও শনাক্তকরণ এড়াতে তিনি মোট ২৯টি ক্লড অ্যাকাউন্ট পালাক্রমে ব্যবহার করেছেন।

ওই ব্যক্তি “ফেইক নিউজ থ্রি ডট পাই” নামে একটি নিজস্ব সফটওয়্যার ব্যবহার করতেন। সফটওয়্যারটি সরাসরি ক্লডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্ট ব্যাচে কনটেন্ট তৈরি করত। প্রতিটি ব্যাচে থাকত ১৫টি শিরোনাম, তিনটি বিস্তারিত সাজানো খবর এবং ছবি তৈরির জন্য ১৫টি প্রম্পট।

পুরো অপারেশন ছিল এআই ও ওয়েবনির্ভর। ছবিতে গুগল ড্রাইভে সংরক্ষিত ফাইল দেখা যাচ্ছে। ছবি: অ্যানথ্রপিক
পুরো অপারেশন ছিল এআই ও ওয়েবনির্ভর। ছবিতে গুগল ড্রাইভে সংরক্ষিত ফাইল দেখা যাচ্ছে। ছবি: অ্যানথ্রপিক

ঠিক কী হচ্ছিল?

• কার্যক্রমটির পরিচালনাকারী অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে তৈরি কনটেন্টকে ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, এসব খবরকে ‘গরম ও আক্রমণাত্মক’ করে তোলা হতো এবং এমনভাবে সহজ করে লেখা হতো, ‘যাতে গ্রামের মানুষও বুঝতে পারে’। তিনি খোলাখুলি এমন দর্শকদের লক্ষ্য করেছিলেন, যারা এসব কনটেন্টকে সত্যিকারের সংবাদ বলে বিশ্বাস করবে বলে তিনি ধরে নিয়েছিলেন।

• কার্যক্রমটির সব কনটেন্টই আওয়ামী লীগপন্থি ছিল। এতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক কমিটি (বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টি), অন্তর্বর্তী সরকার এবং ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের লক্ষ্য করা হয়। এসব প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিদেশি এজেন্ট হিসেবে কাজ করা এবং তালেবানধাঁচের শাসনব্যবস্থা এগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে নেটওয়ার্কটি সাজানো অপপ্রচার চালিয়েছে।

• পরিচালনাকারী আলাদা একটি আপলোড স্ক্রিপ্ট তৈরি করেছিলেন, যা ইউটিউবের এপিআই ব্যবহার করে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ভিডিও প্রকাশ করতে পারত। থার্ড পার্টির একটি ধারাবাহিক সমন্বয় সেবার মাধ্যমে এই স্ক্রিপ্ট পরিচালনা করা হতো এবং এক মাস আগেই ভিডিও প্রকাশের সময়সূচি নির্ধারণ করে রাখা যেত।

• নেটওয়ার্কটির তৈরি কিছু বর্ণনাতেও ভারতপন্থি ভূরাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য দেখা গেছে। তবে এই কার্যক্রমের পেছনে কোনো রাষ্ট্রের নির্দেশনা বা অর্থায়নের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদন বলছে, তৈরি করা এসব কনটেন্ট দিয়ে ফেইসবুক লাইভ, ইউটিউব ও টিকটকে ধারাবাহিক সরাসরি সম্প্রচারের একটি চক্র চালানোর পরিকল্পনা ছিল। এসব ভিডিও বিশেষভাবে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের আওয়ামী লীগ সমর্থকদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হতো, যাদের পড়াশোনার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত বলে ওই ব্যক্তি ধরে নিয়েছিলেন।

এই কার্যক্রমে অন্তত দেড় হাজার শিরোনাম, তিনশ মিথ্যা বর্ণনা এবং দেড় হাজার ছবি তৈরির প্রম্পট তৈরি করা হয়েছে।

ক্লডে তখনও ছবি তৈরির সুবিধা না থাকায়, এসব প্রম্পট সম্ভবত অন্য উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলে পাঠানো হতো। সেখান থেকে তৈরি ভিজুয়াল উপকরণ পরে মিথ্যা বর্ণনার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অ্যানথ্রপিক ধারণা প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত এই কার্যক্রমের লক্ষ্য ছিল দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারকারীরা। কনটেন্টগুলো আওয়ামী লীগের স্বার্থকে সুবিধা দেওয়ার মতো করে তৈরি করা হলেও, তদন্তে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই নেটওয়ার্ককে নির্দেশনা দেওয়া বা অর্থায়নের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

অ্যানথ্রপিকের ব্যবহৃত ‘ব্রেকআউট স্কেল’ অনুযায়ী, এই কার্যক্রমকে ‘ক্যাটেগরি থ্রি’ হিসাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মানে হচ্ছে, একাধিক প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত একাধিক চ্যানেল ও অ্যাকাউন্টে এই কার্যক্রমের উৎপাদিত কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনে অ্যানথ্রপিক লিখেছে, এই প্রচারণার ভিডিও বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য তৈরি একাধিক চ্যানেল ও প্রোফাইলে তিনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই দেখা গেছে। তবে পুরো উৎপাদিত কনটেন্ট কোন কোন নির্দিষ্ট চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়েছিল, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া এসব কনটেন্ট সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর বাইরে আরও বিস্তৃত দর্শকের কাছে পৌঁছেছিল, এমন কোনো প্রমাণও তদন্তে পাওয়া যায়নি।

গ্রামাঞ্চলের মানুষকে লক্ষ্য করে ‘গরম ও আক্রমণাত্মক’ খবর

অ্যানথ্রপিকের তদন্তে উঠে এসেছে, কার্যক্রমটির পরিচালনাকারী নিজেই তৈরি করা কনটেন্টকে ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তার ভাষায়, খবরগুলোকে ‘গরম ও আক্রমণাত্মক’ করা এবং এমনভাবে সহজ করে তৈরি করা হতো, ‘যাতে গ্রামের মানুষও বুঝতে পারে।’

অ্যানথ্রপিক বলেছে, ওই ব্যক্তি এমন দর্শকদের লক্ষ্য করছিলেন, যারা এসব কনটেন্টকে সত্যিকারের সংবাদ বলে বিশ্বাস করবে বলে তিনি ধরে নিয়েছিলেন।

এই নেটওয়ার্কের তৈরি কনটেন্টে ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক কমিটি (বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টি), অন্তর্বর্তী সরকার এবং ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের আক্রমণ করা হয়েছে।

এসব কনটেন্টে সাজানো অপপ্রচার চালিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিদেশি এজেন্ট হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে তালেবানধাঁচের শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

কিছু কনটেন্টে হত্যার ষড়যন্ত্র ও বিশেষ ‘অ্যাটাক স্কোয়াডে’র মতো সম্পূর্ণ কাল্পনিক ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এবং ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের লক্ষ্য করে এ ধরনের বর্ণনা তৈরি করা হয়েছিল।

ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে দেখানোও ছিল প্রচারণার একটি কৌশল। জুলাইয়ের আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের লক্ষ্য করেই এসব বর্ণনা তৈরি করা হয়।

এ ছাড়া বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে ঘিরে বানানো আর্থিক দুর্নীতি এবং গোপন রাজনৈতিক জোটের অভিযোগও ছড়ানো হয়েছে।

ধাপে ধাপে যেভাবে চলত অপারেশন

প্রাথমিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার পর কার্যক্রমটি অল্প মানব তদারকিতে প্রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলত বলে তদন্তে দেখা গেছে।একটি নিজস্ব প্রোগ্রাম ক্লডের এপিআই ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কাঠামোয় বাংলা ভাষায় সাজানো কনটেন্ট তৈরি করত। এর মধ্যে থাকত শিরোনাম, বিস্তারিত বর্ণনা এবং সংশ্লিষ্ট ছবি তৈরির প্রম্পট।

গ্রামাঞ্চলের তুলনামূলকভাবে কম শিক্ষিত দর্শকদের লক্ষ্য করে আবেগঘন ও উত্তেজনাপূর্ণ বিষয়ও প্রোগ্রামটিতে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল।তৈরি হওয়া কনটেন্ট নির্দিষ্ট ক্লাউড স্টোরেজ ফোল্ডারের মাধ্যমে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া হতো। পরে সেগুলো অডিও ও ভিডিওতে রূপান্তর করা হতো।

এরপর আরেকটি স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে ইউটিউবে ভিডিও প্রকাশের সময়সূচি নির্ধারণ করা হতো। এসব ভিডিও কয়েক মাস আগেই প্রকাশের জন্য নির্ধারণ করে রাখা সম্ভব ছিল।

এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একটি আলাদা আপলোড স্ক্রিপ্ট ইউটিউবের এপিআই ব্যবহার করে একসঙ্গে অনেক ভিডিও প্রকাশ করতে পারত। ভিডিও প্রকাশের সময়সূচি এক মাস আগেই নির্ধারণ করা হতো এবং এর জন্য আলাদা একটি থার্ড পার্টি সমন্বয় সেবা ব্যবহার করা হয়েছিল।

অ্যানথ্রপিকের মতে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি থেকে শুরু করে ভিডিও প্রকাশ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটিকে ‘প্রায় স্বয়ংক্রিয়’ করা হয়েছিল।

কোন ধরনের বর্ণনা তৈরি করা হতো

ধর্মীয় উগ্রবাদকে ঘিরে তৈরি বর্ণনায় বিরোধীদের তালেবানধাঁচের শরিয়া শাসন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীতে অনুপ্রবেশ করছে বলে দেখানো হতো। এসব কনটেন্টে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক কমিটিকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

সহিংসতা ও ষড়যন্ত্রের বর্ণনায় সাজানো হত্যাচেষ্টা এবং হামলা চালানোর বিশেষ দল তৈরির মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল অন্তর্বর্তী সরকার এবং ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

বিদেশি এজেন্ট হিসেবে অপপ্রচারের ক্ষেত্রে ছাত্র নেতাদের বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন সংশ্লিষ্টরা।

দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্রের বর্ণনায় আর্থিক দুর্নীতি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে গোপন আঁতাতের মতো সম্পূর্ণ বানানো অভিযোগ তৈরি করা হয়েছে। এসব কনটেন্টের লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, নেটওয়ার্কটির তৈরি কিছু বর্ণনা ভারতের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভূরাজনৈতিক অবস্থানও তুলে ধরেছিল। তবে এর পেছনে কোনো রাষ্ট্রের নির্দেশনা বা অর্থায়ন ছিল, এমন প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি।

গাইবান্ধার একজন, ২৯টি ক্লড অ্যাকাউন্ট

তদন্ত অনুযায়ী, পুরো কার্যক্রমটি বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার একজন ব্যক্তি পরিচালনা করেছেন। প্রায় ১৬ মাস ধরে তিনি শনাক্তকরণ ও প্ল্যাটফর্মের সীমা এড়াতে ২৯টি ক্লড অ্যাকাউন্ট ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করেছেন।

কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত নিজস্ব সফটওয়্যারটির নাম ছিল “ফেইক_নিউজ_থ্রি_ডটপাই”। ডটপাই মানে হচ্ছে, এটি তৈরিতে পাইথন প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে। অ্যানথ্রপিকের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ওই সফটওয়্যারের অন্তত তৃতীয় সংস্করণ।

সফটওয়্যারটি ক্লডের এপিআই ব্যবহার করে কনটেন্ট তৈরি করত। এর সঙ্গে ছিল একটি আলাদা ভিডিও আপলোড স্ক্রিপ্ট, যা ইউটিউবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও প্রকাশ করতে পারত।

আপলোড স্ক্রিপ্টটি কয়েক মাস আগেই ভিডিও প্রকাশের সময় নির্ধারণ করতে পারত। পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের একটি ধারাবাহিক সমন্বয় সেবার মাধ্যমে এটি পরিচালনা করা হতো, যাতে পরিচালনাকারীর আইপি ঠিকানা আড়াল করা যায়।

প্রতিটি চালানে নির্দিষ্ট কাঠামো অনুসরণ করা হতো। এতে ১৫টি সাজানো বাংলা শিরোনাম, তিনটি বিস্তারিত বর্ণনা এবং ছবি তৈরির জন্য ১৫টি ইংরেজি প্রম্পট থাকত।

কার্যক্রমটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্লাউড স্টোরেজ ফোল্ডারের পরিচয় এবং ভিডিও আপলোড স্ক্রিপ্টের তথ্য অ্যানথ্রপিক অংশীদারদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য সংরক্ষণ করেছে।

অ্যাকাউন্ট বন্ধ, নতুন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা

অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্তের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম শনাক্ত করা হয়। এরপর নেটওয়ার্কটির সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্টগুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে অ্যানথ্রপিক মনে করছে, কার্যক্রমের পেছনে থাকা ব্যক্তিরা নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করে আবার একই ধরনের কাজ চালানোর চেষ্টা করতে পারেন।

এ কারণে একই ধরনের আচরণগত বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করার জন্য নতুন ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে একই কার্যক্রম আবার শুরু করার চেষ্টা করলে তা ঠেকানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

অন্য কয়েকটি শনাক্ত করা কার্যক্রমের মতোই এই ঘটনাতেও সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে বিভিন্ন শনাক্তকারী তথ্য শেয়ার করার কথা বলেছে অ্যানথ্রপিক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের এই ঘটনাটিতে মানুষের তদারকি সীমিত রেখে সংবাদ তৈরির একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। একদিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিপুলসংখ্যক বাংলা শিরোনাম ও মিথ্যা বর্ণনা তৈরি করা হয়েছে, অন্যদিকে সেগুলোকে ছবি, অডিও ও ভিডিওতে রূপান্তর করে সামাজিকমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

তদন্তে আওয়ামী লীগের পক্ষে কনটেন্ট তৈরির এই কার্যক্রমের সঙ্গে দলটির সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ না মিললেও, অ্যানথ্রপিকের মূল্যায়নে একাধিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নেটওয়ার্কের তৈরি ভিডিওর উপস্থিতি দেখা গেছে। তবে এসব কনটেন্ট সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর বাইরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, এমন প্রমাণ মেলেনি।

আরো..