https://www.a1news24.com
২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২:০১

জাপানে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে পৌঁছেছে, ৩৬ হাজারের বেশি পরিবার বিদ্যুৎহীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩ জনে পৌঁছেছে। এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। উদ্ধারকাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে ৩৬ হাজারের বেশি পরিবার এখনও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের কুমামোতো প্রিফেকচারে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। জাপানের সরকারি সংবাদমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, বুধবার (২৯ জুলাই) স্থানীয় সময় সকালে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, মৃতের মোট সংখ্যার মধ্যে এমন কয়েকটি ঘটনাও রয়েছে, যেখানে মৃত্যু সরাসরি ভূমিকম্প ও পরবর্তী আফটারশকের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘নিহতদের স্মৃতির প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং তাদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করছি’। তিনি আরও বলেন, ‘এখনও অনেক মানুষ উদ্ধারকর্মীদের অপেক্ষায় আছেন। প্রতিটি সেকেন্ডই গুরুত্বপূর্ণ।’

জাপানের এই প্রধানমন্ত্রী জানান, এখনও অনেক মানুষকে উদ্ধার করা বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলা একটি লড়াই।’

সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কুমামোতো প্রিফেকচার কর্তৃপক্ষের অনুরোধে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভূমিকম্পের পর জাপানের প্রতিরক্ষা বাহিনী এ সদস্যদের মোতায়েন করে।

এনএইচকে জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সরকার নিশ্চিত করেছে। তাই উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও দ্রুত পরিচালনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

সেনাসদস্যরা স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং উদ্ধার অভিযান দ্রুত এগিয়ে নিতে কাজ করবেন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর জরুরি প্রয়োজন নির্ধারণে একটি জরুরি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতিও চলছে বলে জানিয়েছে এনএইচকে।

অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, কুমামোতো প্রিফেকচার প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর ৯ হাজার ৮৭২ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩৬ হাজার ৭০০টি পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

কুমামোতোর একটি শপিংমলে উদ্ধার অভিযান চলছে। সেখানে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ভবনটির দ্বিতীয় তলা ধসে পড়েছে।

এর আগে জাপানের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান, ওই শপিংমলে একাধিক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া একটি কারখানায় চিমনি ধসে পড়ার পর সেখানেও কয়েকজনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি জাপান। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলের পশ্চিম প্রান্তে চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এ দেশটিতে প্রতি বছর শত শত ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ শতাংশ জাপানেই ঘটে। এর বেশিরভাগই তুলনামূলক কম মাত্রার হলেও, ভূমিকম্পের অবস্থান ও ভূগর্ভে কত গভীরে উৎপত্তি হয়েছে, তার ওপর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে।

২০১১ সালের ৯ মাত্রার ভয়াবহ সমুদ্রগর্ভস্থ ভূমিকম্প এবং তার পরের সুনামিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ জন নিহত বা নিখোঁজ হন। ওই দুর্যোগে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

আরো..