আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরাইলের পার্লামেন্টে দেয়া ভাষণ দিয়েছে। ভাষণে তিনি ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ভ্যাপারে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। তবে ২০২৩ সালের হামাসের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি ইসরাইলের সর্বোচ্চ সম্মাননায় ভূষিত হয়ে তেল আবিবের সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত বন্ধুত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় সফরে ইসরাইল পৌঁছান মোদি। বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণের পর লালগালিচা সংবর্ধনা আর উষ্ণ আলিঙ্গনে তাকে বরণ করে নেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিমানবন্দরে মোদিকে দেয়া হয় গার্ড অব অনার। পরে সেখান থেকে দুই নেতা যান জেরুজালেমে।
জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন নরেন্দ্র মোদি। দুই নেতার বৈঠকে উঠে আসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি বৃদ্ধির নানা দিক।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক শেষে ইসরাইলি পার্লামেন্টে ভাষণ দিতে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদি তার ভাষণে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার শিকার পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তবে দীর্ঘ ভাষণের কোথাও গাজায় নিহত হাজার হাজার শিশু ও নিরপরাধ মানুষের কথা একবারও উল্লেখ করেননি।
তিনি বলেন, “ভারতের জনগণের গভীর সমবেদনা প্রতিটি হারানো প্রাণের জন্য এবং সেই প্রতিটি পরিবারের জন্য যাদের পৃথিবী ৭ অক্টোবরের হামাসের বর্বর সন্ত্রাসী হামলায় তছনছ হয়ে গেছে। আমরা আপনাদের ব্যথা অনুভব করি। আমরা আপনাদের শোকের অংশীদার। এই মুহূর্তে এবং এর পরবর্তী সময়েও ভারত দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে ইসরাইলের পাশে দাঁড়িয়েছে।”
নেসেটে ভাষণ শেষে মোদিকে ইসরাইলি পার্লামেন্টের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘স্পিকার অব দ্য নেসেট মেডেল’-এ ভূষিত করা হয়। মোদিই বিশ্বের প্রথম নেতা যিনি এই সম্মাননা পেলেন।
ইসরাইলের প্রতি মোদির এমন অবস্থানকে নেতানিয়াহু ‘প্রকৃত বন্ধুত্ব’ বলে সাধুবাদ জানিয়েছেন। নিজ ভাষণে তিনি বলেন, “ভারত কোনো অজুহাত না দিয়ে ইসরাইলের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।”