সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির প্রতি শিক্ষার্থী ও বই প্রেমীদের আগ্রহ থাকলেও নিয়মিত কার্যক্রম না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পাঠকেরা। বিশেষ করে প্রান্তিক এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সহজে বইয়ের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও পাঠকেরা।
স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি মাঝে মধ্যে কাউনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় আসত। তখন শিক্ষার্থী ও বইপ্রেমীরা সেখান থেকে বই সংগ্রহ ও পড়ার সুযোগ পেতেন। তবে বর্তমানে এ কার্যক্রম নিয়মিত না হওয়ায় পাঠকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
কাউনিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হাসনা পারভিন মুক্তি বলেন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি নির্ধারিত সময়ে ও নিয়মিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা এলাকায় এলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। পাশাপাশি পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন ও বৈচিত্র্যময় বই সরবরাহ করা প্রয়োজন।
সাবেক সহকারী অধ্যাপক আবু দাউদ মোঃ আশরাফুল আরেফিন হিমেল বলেন, উপজেলার প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও জনবহুল এলাকাগুলো চিহ্নিত করে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি করা হলে পাঠকরা নিয়মিত বই পড়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে বই পড়া উৎসব কিংবা ভ্রাম্যমাণ বইমেলার আয়োজন করা যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে পাঠাভ্যাস বাড়বে।
কাউনিয়া মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, গত ২৫ জুলাই রংপুরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সহযোগিতায় দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় রংপুর বিভাগীয় পাঠক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলাম বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, জ্ঞানভিত্তিক, সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনে বই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশু-কিশোরদের বই পড়ায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। নিয়মিত বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সাংস্কৃতক মূল্যবোধ গড়ে তোলা সম্ভব।
স্থানীয়রা বলছেন, কাউনিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া গেলে শিক্ষার্থী ও বইপ্রেমীদের জন্য এটি কার্যকর একটি সেবা হতে পারে। তাদের দাবি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি সপ্তাহে অন্তত একটি করে ইউনিয়নে নিয়মিত চালু করা হোক। এতে প্রত্যন্ত এলাকার পাঠকেরাও সহজে বই সংগ্রহ ও পড়ার সুযোগ পাবেন এবং এলাকায় পাঠচর্চার পরিবেশ তৈরি হবে।