https://www.a1news24.com
১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১১:৩৬

‘কঙ্গোয় ইবোলার তাণ্ডবে ৮০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি’

মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক (ডিআর) কঙ্গো এবং উগান্ডায় প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। কঙ্গোতে গত এক মাসে এই ভাইরাসের ছোবলে ইতিমধ্যে ৮০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

ডব্লিউএইচও’র তথ্যমতে, কঙ্গোর বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে অন্তত ২৪৬ জন রোগী ইবোলার লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। এদের মধ্যে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে ৮ জনের শরীরে ভাইরাসের চূড়ান্ত উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনবিসি জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ৬ জন আমেরিকার নাগরিকও রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক।

বিজ্ঞানীদের মতে, ইবোলা ভাইরাসের (অর্থোইবোলাভাইরাস জাইরেন্স) মোট ছয়টি প্রজাতি রয়েছে। সাধারণত ‘জাইর’ প্রজাতির কারণে বেশি সংক্রমণ ছড়ালেও, কঙ্গো ও উগান্ডার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ‘বুন্ডিবুগিও’ নামের প্রজাতিটিকে দায়ী করা হচ্ছে।

ইবোলা কোনো বায়ুবাহিত রোগ নয়। ফলখেকো বাদুড়কে এই ভাইরাসের মূল প্রাকৃতিক বাহক ধরা হলেও তারা নিজেরা এতে আক্রান্ত হয় না। মানুষ ছাড়াও শিম্পাঞ্জি, গরিলা বা ওরাংওটাংয়ের মতো স্তন্যপায়ী প্রাণী এই রোগের শিকার হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর রক্ত, লালা, ঘাম, বমি কিংবা মলমূত্রের সরাসরি সংস্পর্শে এলে সুস্থ মানুষ এতে সংক্রমিত হতে পারে। এমনকি মৃতদেহের শেষকৃত্যের আচার থেকেও এই ভাইরাস ছড়াতে পারে।

ইবোলা আক্রান্ত হওয়ার পর তীব্র জ্বর, প্রচণ্ড ক্লান্তি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা এবং পেশিতে ব্যথা দেখা দেয়। পরবর্তী সময়ে বমি, ডায়রিয়া এবং লিভার-কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শেষ পর্যায়ে নাক, মুখ বা মলদ্বার দিয়ে মারাত্মক রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে একে ‘হেমারোজিক ফিভার’ বা রক্তক্ষরণ জ্বরও বলা হয়।

সাধারণত ইবোলায় গড় মৃত্যুর হার ৫০ শতাংশ হলেও, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে যে কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুর্ভাবে এই মৃত্যুর হার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত স্পর্শ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বজুড়ে সতর্কতা জারি করে কাজ শুরু করেছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো।

আরো..