https://www.a1news24.com
১৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:০২

আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা করলে জুলাই শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচারকে (আওয়ামী লীগ) ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে তা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে গাদ্দারি হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সংসদে বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করবে, তবে সেই বিরোধিতা হতে হবে গঠনমূলক। বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করে দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের ফলক উন্মোচন ও আধুনিকায়ন করা ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই শহীদদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। যাদের আত্মত্যাগের কারণে আজ তারা বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন, সেই শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে তাদের থাকা উচিত ছিল।

তারেক রহমান বলেন, সরকারের সঙ্গে আপনাদের দূরত্ব আছে, থাকুক দূরত্ব। কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যাদের জীবন উৎসর্গের কারণে, যাদের আহত হওয়ার কারণে, যাদের চোখ হারানোর কারণে আজ আপনারা বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন, সেই মানুষগুলোর মাঝেও তো আমরা আপনাদের দেখতে পাচ্ছি না।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিরোধী দল যদি জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে, তাহলে জুলাই শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের উপস্থিত থাকা উচিত ছিল। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে এবং শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানোর ক্ষেত্রে বিভেদ থাকা উচিত নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কারা পালন করবে, তা দেশের জনগণ ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছে। জনগণের রায়েই বিএনপি সরকার গঠন করেছে, আর অন্য দলগুলো বিরোধী দলের আসনে বসেছে।

সরকারপ্রধান বলেন, নির্বাচনের আগে সরকারি ও বিরোধী দলের প্রার্থীরা জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই সরকার ও বিরোধী দল—উভয়েরই উচিত জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা।

তারেক রহমান বলেন, সব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর একমত হওয়া সম্ভব নয়। সংবিধান সংশোধন, সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, মানুষের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, চিকিৎসা এবং শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদে আলোচনা, যুক্তি-তর্ক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশের মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। ভোটের অধিকার, কথা বলার স্বাধীনতা, সুশিক্ষা, চিকিৎসাসুবিধা, কর্মসংস্থান ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই ছিল তাদের আকাঙ্ক্ষা।

তারেক রহমান বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে এসেছে। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার নির্বাচন করেছে। জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ৮১৩ জন শহীদের নাম সংরক্ষিত রয়েছে। এই স্মৃতিস্তম্ভ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে, একইভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকেও ধারণ করে। সরকার গঠনের পর থেকে জুলাইয়ে আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এডিস মশা সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল চেনে না। এটি সবাইকে আক্রান্ত করতে পারে। তাই রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সবাইকে অংশ নিতে হবে।

তিনি জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিএনসিসি, স্কাউট, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উদ্যানটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সংস্কার করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। তবে উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে পুরোনো গাছপালার ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা উচিত। প্রকৃতি রক্ষা করে স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে। তিনি বলেন, উদ্যান, স্মৃতিস্তম্ভ, গ্রন্থাগার ও বাগান জনগণের সম্পদ। এগুলো পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখা সবার দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরো..